উত্তরের আলো

ফুলবাড়ীতে আঁখ চাষে লাভবান কৌশিক রায় ও তার পরিবার

ফুলবাড়ীতে আঁখ চাষে লাভবান কৌশিক রায় ও তার পরিবার

মো. হারুন-উর-রশীদ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) থেকে:

দিনাজপুরের অধিকাংশ উপজেলার উঁচু জমিতে আঁখ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন ও বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় দিন দিন এ অঞ্চলে আঁখ চাষের পরিধি বাড়ছে। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৬৭২ হেক্টর জমিতে আঁখ চাষ হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আঁখ চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষক কৌশিক রায়। তিনি নিজের ৩০ শতক জমিতে ইশ্বদি-৮ ও ইশ্বদি-১৬ জাতের আঁখ চাষ করেছেন। স্ত্রী ও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে আঁখ চাষ করে আসছেন তিনি।

কৌশিক রায় জানান, ৩০ শতক জমিতে আঁখ চাষ করতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে বাজারে ভালো দাম থাকায় ওই জমি থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আঁখ বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি। জমি থেকে আঁখ তুলে নিজেরাই খুচরা বিক্রি করছেন। প্রতিটি আঁখ প্রায় ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

কৌশিক রায় বলেন, “আমার ৩০ শতক জমিতে আঁখ চাষ করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে বাজার ভালো থাকায় এই জমি থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আঁখ বিক্রি হবে বলে আশা করছি। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ভালো ফলন পেয়েছি।”

তার ছেলে অলক রায় বলেন, “নিজের হাতে আঁখ বিক্রি করছি। প্রতি পিস ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। বাজার ভালো থাকায় এবার লাভও ভালো হবে বলে আশা করছি।”

কৌশিকের স্ত্রী সুমিতা রায় বলেন, “স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে পাঁচ বছর ধরে আঁখ চাষ করছি। আঁখ চাষ থেকে যে আয় হয়, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলে।”

কৃষি বিভাগ জানায়, ফুলবাড়ীসহ দিনাজপুরের উঁচু জমি আঁখ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কৃষকদের আঁখ চাষে উৎসাহিত করতে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বাজারে ভালো দাম অব্যাহত থাকলে আগামীতে এ অঞ্চলে আঁখ চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, “এই অঞ্চলের উঁচু জায়গাগুলোতে আঁখ চাষ হয়ে থাকে। কৃষকদের আঁখ চাষে আগ্রহী করতে কৃষি বিভাগ সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় আগামীতে কৃষকরা আরও বেশি করে আঁখ চাষ করবেন বলে আমরা আশা করছি।”

স্বল্প খরচে ভালো ফলন, পরিবারের সদস্যদের শ্রম এবং বাজারে সন্তোষজনক দাম—সব মিলিয়ে আঁখ চাষকে লাভজনক ফসল হিসেবে দেখছেন ফুলবাড়ীর কৃষকরা। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে আঁখ চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

শেয়ার: