উত্তরের আলো

চিলমারীতে তীব্র গরমে জনজীবন স্থবির, ডায়রিয়ার প্রকোপ

চিলমারীতে তীব্র গরমে জনজীবন স্থবির, ডায়রিয়ার প্রকোপ

এস এম রাফি, চিলমারী (কুড়িগ্রাম): কয়েকদিনের টানা ভ্যাপসা গরমে স্বস্তি নেই কুড়িগ্রামের চিলমারীর মানুষের জীবনে। ঘরের ভেতর হোক বা বাইরে, কোথাও যেন মিলছে না স্বস্তি। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ মানুষরা। একই সঙ্গে বাড়ছে ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশিসহ গরমজনিত নানা রোগ।

স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, গরমের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা বাড়ার পাশাপাশি দূষিত খাবার ও পানির কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপও বাড়ছে। আর আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েকদিনও খুব বেশি স্বস্তির সম্ভাবনা নেই। তাই এখনই সতর্ক না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

শিশুদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় অভিভাবকরা:
চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ দিনে ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি এবং গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে মহিলা রয়েছেন ১১ জন, পুরুষ ১১ ও শিশু ৪ জন। এছাড়া গত কয়েকদিনে সমন্বিত শিশু চিকিৎসা (আইএমসিআই) বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৪৬ জন শিশু।

স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে বয়স্কদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও অনেক অভিভাবক সন্তানদের ডায়রিয়া, জ্বর ও দুর্বলতা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন। পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে অভিভাবকদের।

চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ কয়েকদিন ধরেই ছোট সন্তানকে নিয়ে চিন্তিত। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে এমন গরম পড়ছে যে ঘরের ভেতরেও থাকা কঠিন। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে। সারাক্ষণ তাদের দিকে খেয়াল রাখতে হচ্ছে। পানি খাওয়াচ্ছি, কিন্তু তারপরও ভয় লাগে কখন অসুস্থ হয়ে পড়ে।’

একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল মিয়া। তিনি বলেন, ‘বাইরে বের হয়ে কাজ করা যাচ্ছে না। বাতাস নেই, গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। এর মধ্যে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া বাড়ছে। বাচ্চারা একটু অসুস্থ হলেই হাসপাতালে ছোটার প্রস্তুতি রাখতে হচ্ছে।’

চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের শরীরে পানির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হলেও তারা খুব দ্রুত পানিশূন্যতায় ভুগতে পারে। ফলে ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে তাদের ঝুঁকিও বেশি।

কেন বাড়ছে ডায়রিয়া?

চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু রায়হান বলেন, তীব্র গরমে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। দ্রুত তা পূরণ না করলে মানুষ পানিশূন্যতায় ভুগতে পারে। এছাড়া এই সময় খাবার দ্রুত নষ্ট হয়। খোলা খাবার, অপরিষ্কার পানি ও নোংরা বরফ ব্যবহার করা শরবত থেকে ডায়রিয়া ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।”

“কেবল টিউবওয়েলের নিরাপদ পানি অথবা ফুটানো পানি পান করা উচিত। রাস্তার খোলা শরবত এড়িয়ে চলতে হবে। বাসি বা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, পাতলা পায়খানা শুরু হলেই ওরস্যালাইন খেতে হবে। পাশাপাশি ডাবের পানি, ডালের পানি বা ভাতের মাড়ও উপকারী হতে পারে।

মানুষ সাধারণত কোন ভুলগুলো করছে?

চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গরমের সময় অনেক মানুষ ডায়রিয়া শুরু হওয়ার পরও পর্যাপ্ত স্যালাইন পান করেন না। আবার শিশুদের অসুস্থতা বাড়ার পর হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

ডা. আবু রায়হান বলেন, ডায়রিয়া শুরুর পর সচরাচর দেখা যায় কিছু বড় ভুল করেন অনেকেই। এরমধ্যে অনেকে আধা লিটার পানির চেয়ে কম পানিতে পুরো এক প্যাকেট স্যালাইন গুলিয়ে ফেলেন, যা শরীরের লবণের ভারসাম্য নষ্ট করে। সঠিক নিয়ম হলো পুরো ৫০০ মিলি (আধা লিটার) বিশুদ্ধ পানিতে এক প্যাকেট স্যালাইন ভালোভাবে মেশানো। ডায়রিয়া শুরু হওয়া মাত্রই স্যালাইন খাওয়া শুরু করা উচিত। অনেকে মনে করেন কয়েকবার পাতলা পায়খানা হওয়ার পর স্যালাইন খাবেন, যা মারাত্মক ভুল। স্যালাইন বানানোর পর তা সর্বোচ্চ ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত। এর চেয়ে বেশি সময় ধরে রাখা স্যালাইন খাওয়া ঠিক নয়।
ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর মধ্যে তীব্র পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে অথবা নির্দিষ্ট কিছু ঝুঁকিপূর্ণ উপসর্গ প্রকাশ পেলে কোনো দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। অবহেলা করলে পানিশূন্যতার কারণে রোগীর কিডনি বিকল হওয়া বা শক-এ যাওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকি থাকে। যদি ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে একদম প্রস্রাব না হয়, কিংবা প্রস্রাবের রঙ অতিরিক্ত গাঢ় হলুদ হয়ে যায়। রোগী অতিরিক্ত পানি পানের জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়ে, অথবা একপর্যায়ে এতটাই দুর্বল হয়ে যায় যে পানি বা স্যালাইন গিলে খেতে পারে না। আক্রান্ত রোগী যদি শিশু কিংবা বয়স্ক মানুষ হন, তবে লক্ষণ তীব্র হওয়ার আগেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। তাদের শরীর খুব দ্রুত পানি হারিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলে যায়।

এক সপ্তাহ ধরে উচ্চ তাপমাত্রা

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, গত দশ দিন ধরে কুড়িগ্রামের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে।

১১ আগস্ট জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি আগস্টে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। পরবর্তী কয়েকদিনেও তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৬ ডিগ্রির মধ্যে ছিল। এসময় গড়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রার পাশাপাশি এই উচ্চ আর্দ্রতাই মানুষের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক শামছুদ্দোহা বলেন, মৌসুমি অক্ষরেখা বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থান করা ও মৌসুমি বায়ু কম সক্রিয় থাকায় কুড়িগ্রামসহ রংপুর বিভাগে বৃষ্টিপাত কম হচ্ছে। আবার বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরম আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।”

তিনি ব্যাখ্যা করেন, স্বাভাবিকভাবে শরীর ঘামের মাধ্যমে ঠান্ডা হয়। কিন্তু বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকলে ঘাম দ্রুত শুকাতে পারে না। ফলে মানুষ প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি গরম অনুভব করে।

তিনি বলেন, এখন জেলার কিছু স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে৷ আগামী চার-পাঁচ দিনে অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এতে গরম কিছুটা কমতে পারে। তবে গরম পুরোপুরি কমার জন্য টানা ভারী বৃষ্টি প্রয়োজন।

গবেষক শামছুদ্দোহা আরও বলেন, বর্ষাকালে টানা বৃষ্টি না হলে গরমের অনুভূতি বেড়ে যায়। আবার পরিবেশে সুপ্ত তাপ থেকে যায় বলে বৃষ্টি হলেও অনেক সময় তাপমাত্রা দ্রুত কমে না, বরং গরমের অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। কুড়িগ্রামসহ রংপুর বিভাগে বিভাগজুড়ে বিভাগে টানা বৃষ্টি কমে গিয়ে অল্প সময়ে ভারী বৃষ্টির ঘটনা বাড়ছে। এরপর আবার তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।

একটি নির্দিষ্ট সময়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টি, তাপপ্রবাহ বা বৃষ্টিহীন অবস্থাকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলা যায় না, নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। তবে দীর্ঘ বৃষ্টিহীনতা, ঋতুর স্বাভাবিক সময়ে বৃষ্টির অনুপস্থিতি, বর্ষাকালে তাপপ্রবাহ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি–এসব প্রবণতা আবহাওয়ার ক্রমবর্ধমান চরমভাবাপন্ন হওয়ার লক্ষণ।

গবেষণায় বর্ষাকালে রংপুর বিভাগের তাপমাত্রার ক্ষেত্রে ১৯৮০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ৪০ বছরে দেখা গেছে প্রতি দশকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে।

গত ১০ থেকে ১৫ বছরের রংপুর বিভাগের তাপমাত্রার ধারা বিশ্লেষণ করলে পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট প্রবণতা দেখা যায়। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তাপপ্রবাহের সময়কাল মার্চের শেষ বা এপ্রিলে শুরু হতো এবং এপ্রিল, মে ও জুনের শুরুতে সবচেয়ে বেশি তাপপ্রবাহের দিন দেখা যেত। ২০১০ সালের পর থেকে তাপপ্রবাহের সময়কাল আরও দেরিতে শুরু হয়ে পুরো বর্ষাকাল (জুন–সেপ্টেম্বর) জুড়ে চলতে থাকে, এমনকি কিছু বছরে অক্টোবর পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছে। অর্থাৎ গরমের মৌসুম দীর্ঘ হচ্ছে।

কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?

চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন- পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ব্যক্তি, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা। এর পাশাপাশি দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করা কৃষক ও শ্রমিক, এমনকি দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষও ঝুকিতে রয়েছেন।

মো: রহিম মিয়া (৪৮) নামে এক কৃষক জানান, মাঠে এক ছটাক ছায়াও নাই বাবা। সকাল ১০টা বাজতেই রোদের যে তাপ শুরু হয়, জমিতে দাঁড়িয়ে থাকাই দায়। মাটি থেইকা যেন আগুনের ভাপ ওঠে। শরীর দিয়া প্যাঁচপ্যাঁচ কইরা ঘাম ঝরে, মাথা ঝিমঝিম করে। আগে যেখানে দুপুর পর্যন্ত টানা কাজ করতাম, এখন ১০টার পরই কাজ বন্ধ কইরা গাছের তলায় বইসা থাকতে হয়। কাজ শেষ করতে দিন বেশি লাগতাছে।

ভ্যানচালক ছমির উদ্দীন (৫৫) জানান, এই বয়সে এই খাঁ খাঁ রোদে ভ্যানের প্যাডেল মারা যে কী কালঘাম ছোটানো বিষয়, তা বলে বোঝানো যাবে না। একটু দূর গেলেই বুক ধড়ফড় করে, শ্বাস আটকে আসে। রোদের ভয়ে মানুষ ঘর থেকে বের হয় না, তাই রাস্তায় যাত্রী আর মালপত্র দুই-ই কম।

তীব্র গরমে কী করবেন?

চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে গরমজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। দিনের বেলায় বারবার বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওরস্যালাইন খেতে হবে। দুপুর ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। শিশুদের ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ানো, রাস্তার খোলা শরবত ও কাটা ফল এড়িয়ে চলা এবং খাবার ঢেকে রাখা জরুরি। এছাড়া ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের পোশাক পরা এবং ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখলে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। শ্রমিক ও মাঠে কাজ করা মানুষদের নির্দিষ্ট সময় পরপর বিশ্রাম নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডায়রিয়া হলে কী করবেন?

চিকিৎসকদের মতে, ডায়রিয়া শুরু হলেই অপেক্ষা না করে সঙ্গে সঙ্গে খাওয়ার স্যালাইন পান করা উচিত। এ সময় বিশুদ্ধ পানি বেশি করে পান করতে হবে। ডাবের পানি, ভাতের মাড় বা চিড়ার পানিও শরীরের পানিশূন্যতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো অবস্থাতেই বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। শরীরে দুর্বলতা বাড়তে থাকলে বা অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কখন হাসপাতালে যাবেন?

ডায়রিয়া বা গরমজনিত অসুস্থতার কারণে বারবার পাতলা পায়খানা হলে, বমি বন্ধ না হলে বা শরীর অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। এছাড়া প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে, শিশু পানি খেতে না চাইলে, চোখ বসে গেলে বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণ গুরুতর পানিশূন্যতার ইঙ্গিত হতে পারে।

আবহাওয়ার তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র গরম বা আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে মানুষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারে। আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য জানা যাবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে। এছাড়া টেলিভিশনের আবহাওয়া বুলেটিন, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সতর্কবার্তাও নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে গরমজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।

অন্যদিকে তীব্র গরম কবে কমবে- তা নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। তবে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশুদ্ধ পানি পান, নিরাপদ খাবার গ্রহণ এবং আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করলে অনেকটাই কমানো সম্ভব গরমজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি। কারণ এই সময় একটি পরিবারের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হতে পারে সময়মতো পাওয়া সঠিক তথ্য এবং সেই অনুযায়ী নেওয়া সিদ্ধান্ত।

শেয়ার: