ফুলবাড়ীতে ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের সাহায্যে ধানের চারা রোপন উদ্বোধন

মোঃ হারুন-উর-রশীদ,ফুলবাড়ী(দিনাজপুর):

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রথম বারের মতো রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের সাহায্যে ধান রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় উপজেলার ২নং আলাদীপুর ইউনিয়নের গোকুল এলাকার কৃষক সাইফুল ইসলামের জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের সাহায্যে সমলয় চাষাবাদে বোরো ধান চারা রোপণ উদ্বোধন করেন উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মঞ্জু রায় চৌধুরী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ওয়াসিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্ব চারা রোপন উদ্বোধনের পূর্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহানুর রহমান, ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুশ সাকির বাবলু প্রমুখ।

কৃষি দপ্তর সুত্রে জানা যায়,এই রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের সাহায্যে প্রতি বিঘা জমিতে ধান চারা রোপণ করতে ১ লিটার ডিজেল খরচ হয়। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে কৃষকের খরচ কমবে ও ফলনও বাড়বে। সমলয় চাষবাদ এর উদ্দেশ্য হল কৃষকদের মাঝে সমবায়ী মনোভাব তৈরি করা।

কৃষক মদন চন্দ্র রায় জানান আমি এবার দুই বিঘা জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করবো। এই জমি রোপণে আমার অন্তত ৫ হাজার টাকা খরচ হতো। কিন্তু এই পদ্ধতিতে ৬টাকা খরচ হবে। এছাড়া কৃষি শ্রমিক পেতেও খুব কষ্ট হতো। এ মৌসুমে কৃষি প্রনোদনার বিনামূল্যে ধান রোপণ করছি। এ পদ্ধতিতে বিঘা প্রতি মাত্র ৩০০ টাকা খরচ হবে। কৃষি শ্রমিক খোঁজার হয়রানিও কমে যাবে।

কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষাবাদ নিয়ে আমাদের কোন ধারণা ছিলনা। কিন্তু এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাদের প্রশিণ দেওয়া হয়েছে এবং তাতে আমাদের ধারণা পাল্টে গেছে। আগে ধান রোপণে অনেক পরিশ্রম করতে হতো। আজ ২০ মিনিটেই আমার ৩০ শতাংশ জমির ধান রোপণ করা হলো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, উপজেলায় এই প্রথম ধানের চারা রোপণে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের সাহায্যে ধান চারা রোপণ শুরু করা হলো। প্রথম পর্যায়ে কৃষকদের কোনো খরচ লাগছে ধান বীজসহ সব খরচ কৃষি বিভাগ বহন করছে। সমলয় চাষাবাদে আমরা এ এলাকার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে তাদের বোঝাতে সম হয়েছি। এখন তারা এ পদ্ধতিতে ধান চাষে আগ্রহী। চলতি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনার আওতায় থাকা ৪৪ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন।