শেখ সিয়াম আব্দুল্লাহ,রুয়েট প্রতিনিধি: ১৭ জুলাই ২০২৬ , ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রকৌশল দক্ষতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করে তুলতে “Optimization: From GPA Prediction to AI-Powered Engineering Decision Making” শীর্ষক দিনব্যাপী একটি নিবিড় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগে কর্মশালাটি শুরু হয়ে দিনব্যাপী পাঁচটি সেশনের মাধ্যমে শেষ হয়।
কর্মশালার মূল প্রশিক্ষক ও বক্তা ছিলেন রুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আনান আশরাবি অনন্য। তিনি বর্তমানে সুইডেনের লিংকোপিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অপ্টিমাইজেশন বিষয়ে পিএইচডি গবেষক এবং সুইডেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান Norminds-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অপ্টিমাইজেশন বিষয়ক পরামর্শক হিসেবে কর্মরত।
আয়োজক বিভাগের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহাদী হাসান মাসুদ, অধ্যাপক মো. ওয়াহেদুল ইসলাম, প্রভাষক মো. তানজীব হোসেন আকাশ, প্রভাষক মো. রাসেল আহমেদ, প্রভাষক মোহাম্মাদ রায়হানসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৫০ জন শিক্ষার্থী কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। পাঁচটি সেশনে বাস্তব প্রকৌশল সমস্যা সমাধানে ডেটা অ্যানালিটিক্স, প্রেডিকশন মডেল, অপ্টিমাইজেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রথম সেশনে ডেটা অ্যানালিটিক্স ও ডিসিশন মেকিং বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এতে তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রেডিক্টিভ মডেলিংয়ের মৌলিক ধারণা তুলে ধরা হয়। দ্বিতীয় সেশনে বাস্তব প্রকৌশল সমস্যার উদাহরণের মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ারিং অপ্টিমাইজেশনের ভিত্তিমূলক বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়।
মধ্যাহ্ন বিরতির আগে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সেশনে মেশিন লার্নিং ও রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং প্রযুক্তির প্রকৌশল খাতে ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রদর্শন করা হয়।
বিকেলের চতুর্থ সেশনে অপ্টিমাইজেশন বুটক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা পাইথন ল্যাব এবং একটি মিনি হ্যাকাথনের মাধ্যমে বাস্তবমুখী অপ্টিমাইজেশন সমস্যার সমাধানে হাতে-কলমে কাজ করেন।
সমাপনী সেশনে “Engineering Careers in the Age of AI” শীর্ষক আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্যারিয়ার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, এ ধরনের প্র্যাক্টিক্যাল কর্মশালা ও মিনি হ্যাকাথন তাদের ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং এবং আধুনিক প্রকৌশল প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিয়েছে। বিশেষ করে পাইথন ল্যাব ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন সেশন ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।
শিক্ষার্থীদের মতামত ও ফিডব্যাক গ্রহণ, অংশগ্রহণ সনদ বিতরণ এবং সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ কর্মশালার সফল সমাপ্তি ঘটে।











