কাউনিয়া( রংপুর)প্রতিনিধি: ১৩ জুলাই ২০২৬ , ১০:০০ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সরকারের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সর্বশেষ সরকারি জনবল কাঠামো অনুযায়ী, অনুমোদিত ১৮৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১৩৫ জন। ফলে ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক্স), কার্ডিওলজি ও চক্ষু বিভাগের মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি ও ল্যাব), ডেন্টাল সার্জন, ফার্মাসিস্ট এবং স্বাস্থ্য সহকারীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে।
বিশেষ করে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে সেবা কার্যত বন্ধ রয়েছে। একইভাবে ডেন্টাল সার্জনের পদ শূন্য থাকায় নিয়মিত দন্ত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীদের জেলা শহরের হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এছাড়া জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা, যন্ত্রপাতির ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহ এবং সার্বিক সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কাউনিয়া উপজেলা সংগঠক রায়হান আহমেদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় টেকনোলজিস্ট ছাড়া হাসপাতালের অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল জনগণ পাবে না। তাই দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ দিয়ে আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সচল করা জরুরি।”
বাংলাদেশ লেবার পার্টি রংপুর জেলা শাখার সভাপতি এম এ হক আকরাম বলেন, “একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগের পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আহসান হাবিব বলেন, “আমি সম্প্রতি কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেছি। হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, জনবল ও সেবার অবস্থা পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করছি। যেসব গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে, সেগুলোর তথ্য ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিদ্যমান জনবল দিয়েই রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকট ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে যেসব সমস্যার সমাধান সম্ভব, সেগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আর জনবলসহ নীতিগত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পান, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।”





