শিক্ষা

দুই হাতের আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে এইচএসসি দিচ্ছে কলি রানী

  কাউনিয়া( রংপুর)প্রতিনিধি: ২ জুলাই ২০২৬ , ৬:৩০ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবলকে সঙ্গী করে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন রংপুরের কাউনিয়া কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কলি রানী। জন্ম থেকেই তার দুই হাতের আঙুল নেই। ফলে হাতে কলম ধরতে না পারলেও ডান পা দিয়েই লিখে পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, অন্য পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে একই কক্ষে বসে ডান পা দিয়ে খাতায় লিখে পরীক্ষা দিচ্ছেন কলি রানী। আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
কাউনিয়া উপজেলার গদাই গ্রামের বাসিন্দা কলি রানী। তার মা রূপালী রানী জানান, জন্ম থেকেই কলি শারীরিক প্রতিবন্ধী। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াকালেই তার বাবা মনোরঞ্জন রায় মারা যান। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট কলি। পরিবারের সহযোগিতা, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা ও সহপাঠীদের উৎসাহে সে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে।
শুধু লেখাপড়াতেই নয়, সংগীতেও রয়েছে তার অসাধারণ প্রতিভা। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গেয়ে একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। এছাড়া ডান পা দিয়েই কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন পরিচালনা করতে পারেন।
কলি রানী জানান, লেখাপড়া শেষ করে তিনি বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করতে চান। তার বিশ্বাস, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না। এর আগে তিনি পা দিয়ে লিখেই প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এ গ্রেড এবং এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।
কাউনিয়া মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব রফিকুল ইসলাম জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী কলি রানীর জন্য আলাদা কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। তবে তার নিজের ইচ্ছায় অন্য পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে ৩০২ নম্বর কক্ষে বসেই পরীক্ষা দিচ্ছেন। বোর্ডের বিধি অনুযায়ী তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনের পরীক্ষাও তিনি স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন।