কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ১৪ মে ২০২৬ , ৯:২১ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামে চলতি বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৮৮ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। টানা বর্ষণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বোরো চাষি ও দিনমজুররা।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকেই জেলায় মুষলধারে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে গেছে। এতে জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিসের সামনেও হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বিশেষ করে পাকা ধান কাটতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। পাশাপাশি কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ।
সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের খলিফার মোড় এলাকার দিনমজুর আজিজুল মিয়া বলেন, “বৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছি না। আজ কাজও বন্ধ। একদিন কাজ না করলে সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যায়।”
সদর পৌর এলাকার কৃষক আজাদ মিয়া বলেন, “আমার পাকা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ধান কাটা নিয়ে খুব টেনশনে আছি। এত বৃষ্টির মধ্যে কীভাবে ধান কাটব বুঝতে পারছি না।”
উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মোল্লারহাট এলাকার কৃষক মো. মতিয়ার রহমান বলেন, “যে বৃষ্টি হইছে, তাতে চিন্তায় পড়ছি। গতকালও ধানক্ষেত দেখে আসছি, ধান কাটতে আরও পাঁচ-ছয় দিন লাগবে। এখন তো ধান ডুবে যাওয়ার অবস্থা, কী যে হবে আল্লাহই জানে।”
সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের ছত্রপুর গ্রামের হাফেজ রশিদ আহমেদ বলেন, “ধান আবাদ করতে যে খরচ হয়, সে হিসেবে ধানের দাম পাই না। তার ওপর ধান কাটার শ্রমিকের খরচ বেশি। এখন অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ধানক্ষেত ডুবো-ডুবো অবস্থা। বৃষ্টি না কমলে ধান তুলতে পারব কি না, সেই চিন্তায় আছি।”
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে শহরের বেশির ভাগ এলাকা হাঁটু পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পৌর শহরের সুজামের মোড় এলাকার মুদি দোকানদার রিপন মিয়া বলেন, “এমনিতেই শহরের রাস্তার বেহাল অবস্থা, তার ওপর এত বৃষ্টি। কাস্টমার নেই বললেই চলে। তবুও সংসার চালাতে দোকান খুলেছি।”
ঘোষপাড়া এলাকার কাঠমিস্ত্রি সৈয়দ আলম বলেন, “মনে হয় গত কয়েক বছরের মধ্যে এত বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টির কারণে কাজে যেতে পারিনি, কষ্টের মধ্যে আছি।”
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৮৮ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। আগামী ৭২ ঘণ্টায় আরও ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এবারের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে জেলার প্রায় ৫১ হেক্টর আবাদি জমির ফসল ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছি। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠে কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অর্ণপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “এ বছরের মধ্যে আজ সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টিতে ধানক্ষেতসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি কমাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।”





