বিবিধ

ক্যান্সারে শয্যাশায়ী কাঠমিস্ত্রী রাকুল,থমকে গেছে ৬ সদস্যের সংসার

  চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ৩ মে ২০২৬ , ৫:৪০ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

দিনভর কাঠের ঘষামাজা আর হাতুড়ির শব্দে যার জীবন চলত, আজ সেখানে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। সেই জায়গা দখল করেছে দীর্ঘশ্বাস আর কান্না। তিনি রাকুল মিয়া—কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের পশ্চিম খরখরিয়া গ্রামের এক পরিশ্রমী কাঠমিস্ত্রী।
ফার্নিচারের দোকানে কাজ করে তিন ছেলেকে নিয়ে স্বপ্ন বুনতেন তিনি। কিন্তু গত এক বছর ধরে মরণব্যাধি ক্যান্সার তার সেই স্বপ্নকে থামিয়ে দিয়েছে। এখন তিনি শয্যাশায়ী।
৬ সদস্যের সংসারে আয়ের একমাত্র উৎস ছিলেন রাকুল। পরিবারে রয়েছেন তার মা, স্ত্রী আসমা বেগম ও তিন ছেলে। বড় ছেলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী, আর ছোট দুই ছেলে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। বাবার অসুস্থতায় তাদের শিক্ষাজীবন এখন অনিশ্চয়তায়।
বাড়ির ভিটে ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই পরিবারটির। ইতোমধ্যে ধার-দেনা করে প্রায় এক লাখ টাকা চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, সুস্থ হতে আরও অন্তত ৫ লাখ টাকা প্রয়োজন—যা এই দরিদ্র পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব।
রাকুলের স্ত্রী আসমা বেগম বলেন,“আমার স্বামীর আয়েই সংসার চলত। এখন তিনি বিছানায়। ছেলেদের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার পথে। সবাই যদি একটু সাহায্য করেন, আমার স্বামী বাঁচতে পারে।”
রাকুলের মা চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে বলেন,
“আজ কচুপাতা আর ডাল রান্না করছি। পাশের বাড়ি থেকে এক প্লেট খাবার দিয়ে গেছে ছেলেকে খাওয়াতে। এভাবেই চলছে আমাদের সংসার। এখন আমার ছেলেকে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চাই।”
রাকুল মিয়া বলেন,“এক বছর ধরে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছি। যা সঞ্চয় ছিল, তা দিয়ে চিকিৎসা ও সংসার চলেছে। এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি। ছেলেদের পড়াশোনা চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। বড় ছেলে এবার এসএসসি দিচ্ছে—তার ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি।”
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান,সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সহযোগিতার আবেদন
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রাকুল মিয়ার চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিকাশ: ০১৯৩৭৫৪৯৭৫৫