বিবিধ

ভাঙনের মুখে চিলমারী, আধা ঘণ্টায় ভাঙনের শিকার ২৫টি বাড়ি

  চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ২৯ জুন ২০২৬ , ৩:৫৬ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। গত তিন দিনে অন্তত ৫০টি পরিবারের বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোরে মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে বিশারপাড়া আশ্রয়ন এলাকায় ২৫টি বাড়ি নদীতে তলিয়ে যায়। অব্যাহত ভাঙনে শত শত একর ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিন ধরে চিলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে বৈদ্যুতিক লাইনের ৬টি খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় প্রায় ৪০০ পরিবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে মনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল বাজার, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শাখাহাটী, কড়াইবরিশাল, বিশারপাড়া ও আশপাশের এলাকায় নদী প্রতিনিয়ত গিলে খাচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। ভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার নিজ উদ্যোগে বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত আতিকুর রহমান, আনসার আলী, আব্দুল হামিদ, বক্কর আলী, লাল মিয়া, শাহিন মিয়া, ফুলু মিয়া ও মোনছোর মেম্বারসহ অনেকেই ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিশারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শাহিন মিয়া, তোফায়েল হোসেন ও মুকুল মিয়া বলেন, “ব্রহ্মপুত্র আমাদের বসতবাড়ি কেড়ে নিয়েছে। সাজানো সংসার মুহূর্তেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা ত্রাণ চাই না, নদীভাঙন থেকে স্থায়ী রক্ষা চাই।”
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, গত দুই বছরে ইউনিয়নের প্রায় ৬৫০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে যে হারে ভাঙন চলছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ইউনিয়নের বড় একটি অংশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র ও কড়াইবরিশাল বাজারও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।”
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “চরাঞ্চলের দীর্ঘ নদীতীর রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন। প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০টি জিও ব্যাগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তাই ঝুঁকিতে থাকা স্থাপনাগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”