আতাউর রহমান,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ২৬ জুন ২০২৬ , ৪:২১ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি মৌজায় তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একাধিক পরিবারের বসতভিটা। চলমান পূর্ব তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ চলাকালেই নতুন করে শুরু হওয়া এ ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল থেকে রামহরি মৌজায় হঠাৎ ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইদ্রিস আলী, শহিদুল হক ও আতাউল ইসলামের বসতভিটা তিস্তার গর্ভে তলিয়ে যায়। আকস্মিক এ ভাঙনে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে আরও অন্তত ২০ থেকে ২৫টি পরিবার নদীভাঙনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শত কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ৪০টি প্যাকেজের নদী সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। ফলে নদীভাঙন রোধে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহেরুল ইসলাম মাওলানা বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও কাজের ধীরগতির কারণে আমরা আজ নিঃস্ব। লেবার সর্দারের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করায় কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে জিও ব্যাগ ডাম্পিং সম্পন্ন না হলে বরাদ্দের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি আমাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো তাদের শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করা সম্ভব হতো।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্য সচিব মজিদুল ইসলাম জানান, তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে একটি প্যাকেজের কাজ বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছে। তবে দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “রামহরি এলাকায় আগে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল, তবে তা টেকসই হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় শুক্রবার ওই এলাকায় পুনরায় ৬ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”
নদীপাড়ের মানুষের একটাই দাবি—দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে তিস্তার ভয়াল ভাঙন থেকে তাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি রক্ষা করা হোক। অন্যথায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।











