চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ৮ মে ২০২৬ , ৩:৫০ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ চিলমারী-মিনাবাজার সড়ক এখন যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ধস ও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিনেও সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।
জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে পাত্রখাতা মিনাবাজার সড়কের আকালুরঘাট এলাকায় সড়ক ধসে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ধসে যাওয়া অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে কোনোভাবে চলাচল করছে অটো ও রিকশা। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাত্রখাতা মিনাবাজার এলাকার সঙ্গে জোড়গাছ ও উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ সহজ করতে তিস্তার খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে প্রায় ৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৪ মিটার দীর্ঘ সেতুসহ সংযোগ সড়কের কাজ বাস্তবায়ন করে মেসার্স লুফা-জেড এইচ ডি (জেভি) নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
তবে নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সড়কের পাশে গাইড ওয়াল ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা হলে এভাবে ধস নামতো না। ত্রিমুখী এই সড়কের দুটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙনের কারণে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে মানুষকে।
স্থানীয় কামাল হোসেন,আনসার আলীসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, এই সড়ক দিয়ে পাত্রখাতা, মিনাবাজার, মন্ডলেরহাট, কাশিমবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ উপজেলা সদর, জোড়গাছ ও থানাহাট বাজারে যাতায়াত করেন। সড়কের এমন বেহাল অবস্থায় প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
অটোচালকরা জানান, জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই তাদের এই সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে। ভাঙা স্থানে পৌঁছালে অনেক সময় যাত্রী নামিয়ে দিয়ে অটো পার করতে হয়। এতে যাত্রী ও চালক উভয়ই আতঙ্কে থাকেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. জুলফিকার আলী বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে সড়কে ধস দেখা দিয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











