রাজনীতি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধের পথে ইসি

  ডেস্ক রিপোর্ট : ৭ মে ২০২৬ , ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় সংশোধন এনে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হতে পারে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় খসড়া প্রস্তুতের নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।
ইসি সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টারবিহীন প্রচারণায় ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, এতে পরিবেশদূষণ কমবে এবং নির্বাচনি প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রভাব নিয়ন্ত্রণেও নতুন বিধান আনার চিন্তা করছে ইসি। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে এমপিদের কার্যালয় স্থাপনের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনি আচরণবিধিতে নতুন ধারা যুক্ত করার আলোচনা চলছে, যাতে নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না ঘটে।
এছাড়া নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায়ও বেশ কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মনোনয়নপত্রের ফরমে পরিবর্তন, বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার নিয়ম বাতিলের উদ্যোগ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রচারণার সুযোগ রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিল করে সংসদে আইন পাস হয়েছে। সেই অনুযায়ী বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। তবে নির্বাচন আয়োজনের সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, পোস্টার ছাড়া নির্বাচনি প্রচারণা সম্ভব—এটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে।
বর্তমানে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, চার শতাধিক উপজেলা পরিষদ, তিন শতাধিক পৌরসভা ও ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন বকেয়া রয়েছে। এছাড়া কয়েক হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের সময়ও ঘনিয়ে এসেছে। সরকারের সবুজ সংকেত পেলেই তফসিল ঘোষণা করতে প্রস্তুত রয়েছে নির্বাচন কমিশন।