উত্তরের আলো

২ বছরেও নির্মাণ হয়নি ব্রিজকাঠের সাঁকোয় পারাপার-জন ভোগান্তী চরমে

ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপারে হাজারো মানুষ

চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে নতুন ব্রিজ নির্মাণ শুরুর ২বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি ব্রিজের কাজ। ব্রিজ নিমাণের ধীর গতির কারনে নড়বড়ে কাঠের সাঁকোয় জীবনের ঝুকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে মানুষ ও ছোট খাট যানবাহন। ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপারে হাজারো মানুষের ভোগান্তী চরমে উঠলেও নিরব ভূমিকায় কর্তৃপক্ষ।জানা গেছে,উপজেলা শহর থেকে রাণীগঞ্জগামী সড়কের রাধারল্লভ রাজারঘাট এলাকায় তিস্তা খালের উপরের সেতুটি বণ্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হলে পরিত্যাক্ত ঘোষনা করে ৬০মিটার দৈর্ঘ্যের একটি নতুন আরসিসি গার্ডার ব্রিজের কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশ সরকার ও এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামীণ অবকাঠামো পূর্ণবাসন প্রকল্পের অধিনে ২০২৪সালে ব্রিজ নির্মাণ কাজের শুরু করা হয়। এতে বরাদ্দ দেয়া হয় ১০কোটি ৯৮লক্ষ ৮৬হাজার ৪৩২টাকা।কাজটি পান কুড়িগ্রামস্থ মেসার্স এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড সেমার্স খায়রুল এন্টারপ্রাইজ(জয়েন ভেঞ্চার)। ব্রিজের কাজ ২০২৪ সালের ১৫অক্টোবর তারিখে শুরু হয়ে ২০২৬ সালে ১৪এপ্রিল তারিখে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজের শুরুতেই বিদ্যমান ব্রিজটি ভেঙে মানুষ চলাচলের জন্য অস্থায়ীভাবে পাশ্বেই কাঠের পাটাদান দিয়ে একটি সাঁকো নির্মাণ করা হয়। ব্রিজ নির্মাণের দীর্ঘসূত্রিতার কারনে নড়বড়ে কাঠের সাঁকো দিয়ে প্রতিনিয়ত পারাপার হচ্ছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ও ছোট খাট যানবাহন। সাকোঁটি ন্যারো এবং নড়বড়ে হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে তারা।সরেজমিনে দেখা যায়,ব্রিজ নির্মাণের জন্য বেধে দেয়া সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। কাজ শেষ না হওয়ায় অস্থায়ী ভিত্তিতে নির্মিত কাঠের সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় রকমের দুর্ঘটনা।স্থানীয় ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান বলেন,ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ায় আমার মালামালবাহি ট্রাক দোকান পর্যন্ত আনতে পারছি না। ফলে ব্রিজের অপর প্রান্তে মাল নামানো এবং ছোট পরিবহনে আনতে অনেক বেশী খরচ গুনতে হয়। এতে ব্যবসায় লাভ না হয়ে বরং লোকসানের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।সফিকুল ইসলাম জানান,ব্রিজ নির্মাণের ধীর গতির কারনে নড়বড়ে জীর্ণ কাঠের সাঁকোর উপর দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রায় লক্ষাধিক মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার লেলিন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী মো.জুলফিকার আলী বলেন,ব্রিজটির ব্যাতিক্রমি নকসার জন্য বিশেষ পারদর্শি মিস্ত্রি দরকার। মিস্ত্রির অভাবে নির্মাণ কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। কাজের প্রায় ৫০শতাংশ শেষ হয়েছে। বর্তমানে কাজ চালু রয়েছে বাকী কাজ দ্রæত সময়ের মধ্যে স্মপন্ন হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার: