সদরুল আইন: ৪ মে ২০২৬ , ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচ রাজ্যের বহুল আলোচিত বিধানসভা নির্বাচনের ফল আজ সোমবার প্রকাশিত হচ্ছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের ফলাফল, যেখানে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে ভোট গণনা শেষে নির্ধারিত হবে রাজ্যে আগামী পাঁচ বছরের ক্ষমতার সমীকরণ।
চতুর্থ বারের মতো মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরছে, নাকি ক্ষমতা হারাচ্ছে? নাকি প্রথম বারের মতো বিজেপি সরকার গঠন করছে? এসব প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হয়ে যাবে আজই।
আজ দুপুরের মধ্যেই ফলাফলের স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৭ আসন। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি উভয় দলই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। মমতা ব্যানার্জি দাবি করেছেন, তার দল ২২৫টির বেশি আসন পাবে।
অন্যদিকে বিজেপি নেতারা তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত বলে দাবি করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে আসন সংখ্যা প্রকাশ না করলেও দলীয়ভাবে ১৬০ থেকে ১৭০ আসনের হিসাব কষছে।
এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়েছে রাজ্য জুড়ে। ভোট কারচুপি ঠেকাতে তৃণমূল ও বিজেপি উভয় পক্ষই স্ট্রংরুমে নিজ নিজ কর্মীদের পাহারায় রেখেছে।
বুথফেরত সমীক্ষা নিয়েও চলছে তীব্র বিতর্ক। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ, এসব সমীক্ষায় বিজেপিকে এগিয়ে দেখিয়ে বাজারে প্রভাব তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের মতো এবারও তৃণমূলই এগিয়ে থাকবে এবং আগের চেয়েও বেশি আসন পাবে।
অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ ভবানীপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের অবস্থান দুর্বল হয়েছে এবং বেশির ভাগ ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নন্দীগ্রামে ২০২১ সালে তিনি মমতা ব্যানার্জিকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন।
অন্যদিকে ভবানীপুর দীর্ঘদিন ধরে মমতা ব্যানার্জির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যেখানে তিনি বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে আসছেন। এবার সেই ব্যবধান ধরে রাখা বা কমে যাওয়ার বিষয়টি ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আজ তামিলনাডু (২৩৪ আসন), কেরালা (১৪৭ আসন), আসাম (১২৬ আসন) এবং পণ্ডিচেরি (৩৩ আসন) বিধানসভা নির্বাচনের ফলও প্রকাশিত হবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি মূলত পশ্চিমবঙ্গের দিকেই, কারণ এই রাজ্যের ফল জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।










