স্টাফ রিপোর্টার: ১৫ মে ২০২৬ , ৯:০৮ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের রৌমারী সদর হাট-বাজারে সরকারি নিয়ম ও নির্দেশনা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারি এবং সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেক ব্যাপারি জানিয়েছেন, এভাবে অতিরিক্ত খাজনা আদায় চলতে থাকলে ভবিষ্যতে তারা এই হাটে আর আসবেন না।
জানা গেছে, গত বছর রৌমারী সদর হাট-বাজারটির ইজারা মূল্য ছিল প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। তবে চলতি বছর স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলে শাকিল আহমেদের নামে প্রায় ৬ কোটি টাকায় হাটটির ইজারা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই হাটের বিভিন্ন অংশ চড়া দামে সাব-ইজারা দেওয়া হয়। ফলে সাব-ইজারাদাররা আগের তুলনায় দ্বিগুণ হারে খাজনা আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে হাটে অতিরিক্ত টোল আদায় আরও বেড়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্বের টোলের তুলনায় মাত্র ১০০ টাকা বাড়ানোর মৌখিক প্রস্তাব দেওয়া হলেও, ইজারাদারপক্ষ গরুপ্রতি টোল ৩০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। আগে প্রতি গরুর টোল ছিল ৫০০ টাকা। প্রশাসনের প্রস্তাব ছিল ৬০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে আদায় করা হচ্ছে ৮০০ টাকা। একইভাবে ছাগলের টোল ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র ক্রেতার কাছ থেকে টোল নেওয়ার কথা থাকলেও রৌমারী হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষের কাছ থেকেই টোল আদায় করা হচ্ছে।
সাব-ইজারাদার রতন দাস জানান, গত বছর মাছ বাজারের ইজারা ছিল সাড়ে ৪ লাখ টাকা। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। পানহাটির ইজারা নেওয়া পান বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বলেন, আগে পানহাটির ইজারা ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, এবার তা বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সবজিহাটির ইজারাদার আজিজুর রহমান গ্যাল্লা জানান, গত বছর তিনি সাড়ে ৭ লাখ টাকায় ইজারা নিলেও এবার নিয়েছেন সাড়ে ১০ লাখ টাকায়। তাদের দাবি, ইজারা মূল্য বেড়ে যাওয়ায় খাজনাও কিছুটা বাড়াতে হচ্ছে।
হাটে আসা ঘুঘুমারী এলাকার শহিদুল ব্যাপারী, পূর্ব ইছাকুড়ির জলু শেখ ও নাউবাড়ির আব্দুল মতিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত দামে হাট ইজারা নিয়ে এখন সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে। হাটে কোনো খাজনার তালিকা টাঙানো নেই। প্রশাসনও যেন বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে।”
বাজারে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, অতিরিক্ত টোল ও সাব-ইজারার চড়া মূল্যের প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। এতে মাছ, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামও বেড়ে গেছে।
এ বিষয়ে ইজারাদারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “গত বছরের টোলে হাট চালাতে গেলে লোকসান হবে। তাই কিছুটা টোল বাড়ানো হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, “গত বছর গরুর টোল ছিল ৬০০ টাকা। এবার ১০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র ঈদ উপলক্ষে নেওয়া সিদ্ধান্ত।”





