উত্তরের আলো

রাবি উপ-উপাচার্যের স্টোরিতে নিয়োগপ্রার্থীর প্রবেশপত্র: সুপারিশ বিতর্কে জামায়াত নেতা

রাবি উপ-উপাচার্যের স্টোরিতে নিয়োগপ্রার্থীর প্রবেশপত্র: সুপারিশ বিতর্কে জামায়াত নেতা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের ফেসবুক স্টোরিতে শিক্ষক নিয়োগের একজন আবেদনকারীর প্রবেশপত্র প্রকাশ পাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে সুপারিশ বিতর্ক। যেখানে দেখা যায় জামায়তপন্থী এক সাবেক এমপির সুপারিশ।বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা নিয়ে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দেন ফরিদ উদ্দিন, যেখানে ঘটনার পেছনে নিজের সন্তানের অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং একটি সুপারিশের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

ঘটনার পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফেসবুক পোস্টে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন,
“আমার ফেসবুক স্টোরিতে একজন আবেদনকারীর প্রবেশ পত্র কিভাবে আপলোড হয়েছে বুঝতে পারিনি। তবে মোবাইল ফোনটি নিয়ে আমার ছেলে বেশ কিছু সময় গেম খেলছিল। তখন হয়তো ভুলবশত স্টোরিতে চলে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রার্থী বা তাদের আত্মীয়-স্বজন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সিভি, প্রবেশপত্র কিংবা সুপারিশ পাঠিয়ে থাকেন। কেউ সরাসরি দেখা করে, কেউবা হোয়াটসঅ্যাপ বা টেক্সট করে এসব তথ্য দেন।

সুপারিশ সংক্রান্ত প্রসঙ্গে উপ-উপাচার্য বলেন, রাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) নির্বাচনের সময় এক জামায়াতপন্থী সাবেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সম্প্রতি সেই সাবেক এমপি ফোন করে তার এলাকার এক চাকরিপ্রার্থীর জন্য সুপারিশ করেন এবং প্রবেশপত্র পাঠান।

অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন জানান, বর্তমানে তার অফিস ও ব্যক্তিগত মোবাইলে ডজন খানেক এ ধরনের সিভি বা সুপারিশ জমা আছে। তবে তিনি দাবি করেন, এসব কোনোভাবেই লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষার ওপর প্রভাব ফেলে না।

ঘটনাটি নিয়ে যাতে কেউ ভুল না বোঝেন, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন উপ-উপাচার্য। তিনি বলেন,
“আশা করি বিষয়টি নিয়ে কেউ ভুল বুঝবেন না। ভুলবশত এই স্টোরির জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি।”

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন উপ-উপাচার্যের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো আবেদনকারীর গোপনীয় তথ্য কীভাবে প্রকাশ হলো। অন্যদিকে, জামায়াতপন্থী সাবেক এমপির সুপারিশ গ্রহণ করাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

প্রসঙ্গত, রাবিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগে আগে থেকেই বিভিন্ন সময়ে স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। এবারের ‘সুপারিশ কাণ্ড’ সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

শেয়ার: