উত্তরের আলো

প্রবাসফেরত মানিকের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে,অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রবাসফেরত মানিকের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে,অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

জাহিদুর রহমান উজ্জল,মাদারগঞ্জ(জামালপুর) প্রতিনিধি:
বৈবাহিক তথ্য গোপন করে একাধিক নারীকে বিয়ে এবং পরে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামালপুরের মাদারগঞ্জ পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষুদ্র জোনাইল গ্রামের প্রবাসফেরত মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে। তিনি ওই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।

অভিযোগকারী মানিকের দ্বিতীয় স্ত্রী ময়মনসিংহের আকলিমা ওরফে জুঁই আক্তার সাথীর দাবি, নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন মানিক। প্রায় চার বছর সম্পর্কের পর তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর ৭-৮ মাস সংসার করার পর মানিক তাকে ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আকলিমার অভিযোগ, লেবাননে যাওয়ার সময় মানিক তার কাছ থেকে ৩ হাজার ৬০০ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ লাখ টাকা, নেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দফায় আরও টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আকলিমা জানান, বিয়ের পর মানিক দেশে ফিরে তার কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নেন। পরে আবার লেবাননে চলে যান। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, মানিকের এর আগেও বিয়ে হয়েছিল। সেই তথ্য গোপন করেই তার সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আকলিমার ভাষ্য, মানিক এর আগে একই এলাকার রিপা নামের এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন। ওই বিয়ের পর রিপার পরিবারের আর্থিক সহায়তায় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় যান বলেও অভিযোগ করেন আকলিমা। পরে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে অবনতি হলে মানিক দেশে ফিরে আসেন বলে তার দাবি।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, দেশে ফিরে মানিক পাশের গ্রামের লাকি নামের আরেক নারীকে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানার পর তিনি মানিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি বলে জানান আকলিমা।

তার অভিযোগ, মানিক তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নেওয়ার পর বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে মানিক মিয়ার বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শেয়ার: