উত্তরের আলো

চিলমারীতে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

চিলমারীতে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চিলমারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ফকরুদ্দীনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম মেনে টাকা জমা দেওয়ার প্রায় এক বছর পার হলেও চর হরিপুর এলাকার ১৪টি পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি। এমনকি সংযোগের বিষয়ে জানতে গেলে ভুক্তভোগীদের কাছে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর চাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

হয়রানি ও অনিয়মের প্রতিকার এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিতে সোমবার চিলমারী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। চর হরিপুর এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইউনুছ আলী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চর হরিপুর এলাকার ১৪টি পরিবার পল্লী বিদ্যুতের ডিপোজিট লাইনের মাধ্যমে সংযোগ নেওয়ার জন্য প্রায় এক বছর আগে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। লাইন নির্মাণ বাবদ ৫৪ হাজার টাকা, বাণিজ্যিক মিটারের জামানত বাবদ ১১টি পরিবারের ১১ হাজার ১১০ টাকা এবং আবাসিক মিটারের জামানত বাবদ তিনটি পরিবারের ১ হাজার ৫৯০ টাকা—সব মিলিয়ে মোট ৬৬ হাজার ৭০০ টাকা জমা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় তিন মাস আগে তাঁদের নামে মিটার এলেও রহস্যজনক কারণে এখনো সংযোগ দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে বারবার চিলমারী জোনাল অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি তাঁরা। পরে কুড়িগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ও সহকারী জেনারেল ম্যানেজারের (এজিএম) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মেলেনি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংযোগের বিষয়ে জানতে গেলে জোনাল অফিসের ডিজিএম তাঁদের একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বলেন। তবে কেন ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁদের।

সংবাদ সম্মেলনে মো. ইউনুছ আলী আরও অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাঁর রাইস মিলের সিঙ্গেল ফেজ মিটার নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিন অফিসে ঘোরাঘুরির পর তাঁকে তিন ফেজ সংযোগের জন্য আবেদন করতে বলা হয়। এরপর প্রায় দেড় মাস আগে তিনি আবেদন করলেও এখনো সংযোগ পাননি। এতে তাঁর রাইস মিলের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অথচ একই এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য একটি রাইস মিলে সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব বিষয়ে ডিজিএমের কাছে জানতে চাইলে উল্টো তাঁদের আইনি ভয়ভীতি দেখানো হয়।

ইউনুছ আলী বলেন, “নিয়ম মেনে টাকা জমা দেওয়ার পরও এক বছর ধরে বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। মিটার এসে পড়ে থাকলেও কেন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না, তার স্পষ্ট জবাব চাই। আমরা দ্রুত তদন্ত করে এর সুষ্ঠু প্রতিকার ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিলমারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ফকরুদ্দীন বলেন, “ওই এলাকায় সংযোগকে ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এ কারণে সংযোগ দিতে বিলম্ব হচ্ছে।”

রাইস মিলের সংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “অতিরিক্ত লোডের কারণে বারবার মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে ওই মিল মালিককে তিন ফেজ সংযোগের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছিল। তিনি আবেদন করেছেন। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. শামিম পারভেজ বলেন, “কেন সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না, বিষয়টি কথা বলে দেখছি।”

সংবাদ সম্মেলনে মো.কামরুজ্জামান,মো.সাইফুল ইসলাম,
মো.রেজাউল ইসলাম,মো.ইদ্রিস আলীসহ স্থানীয় ভুক্তভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার: