আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম: ৫ জুন ২০২৬ , ১০:৪৯ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সদরের একটি বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯৫টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভূরুঙ্গামারী বাজারের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ীদের একটি দোকানে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো মার্কেট আগুনে গ্রাস হয়ে যায়।
প্রায় দেড় ঘণ্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮০টি কাপড়ের দোকান, জাকের পার্টির একটি কার্যালয়সহ আরও ১৫টি ফল, জুতা, কসমেটিকস ও বইয়ের দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়। ব্যবসায়ীরা দোকান থেকে মালামাল বের করার সুযোগও পাননি।
খবর পেয়ে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে অধিকাংশ দোকান ও মালামাল পুড়ে যায়।
ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি টুটুল মিয়া বলেন, “এখানকার বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। আগুনে তাদের সবকিছু পুড়ে গেছে। অনেক পরিবার এখন পথে বসার উপক্রম। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”
নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খলিলুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক হিসাবে ৯৫টি দোকান পুড়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পুনর্বাসনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য বিকেলে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
এদিকে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরো ভূরুঙ্গামারী এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।











