স্টাফ রিপোর্টার: ২১ জুন ২০২৬ , ১০:০২ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
‘মেধা ও মননশীলতা বিকাশে বদ্ধপরিকর’ এই প্রত্যয়কে ধারণ করে দেশের অন্যতম স্বনামধন্য প্রথম শ্রেণির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান রয়েল পাবলিকেশন আয়োজন করেছে ‘রয়েল সাহিত্য সম্মাননা–২০২৬’। রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার এক অনন্য উৎসবে পরিণত হয়।
রয়েল পাবলিকেশনের কর্ণধার মো. মনিরুল ইসলাম (রয়েল)-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাহিত্য, প্রকাশনা ও শিল্প-সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ২০ জন লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও প্রচ্ছদশিল্পীকে সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘সেরা পাণ্ডুলিপি পুরস্কার’ প্রদান। এ বিভাগে সাহিত্য সম্মাননা লাভ করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠসৈনিক ও প্রখ্যাত লেখক ডা. অরূপরতন চৌধুরী, দৈনিক নয়া দিগন্তের সাহিত্য সম্পাদক ও বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক জামসেদ ওয়াজেদ, কথাসাহিত্যিক খান আখতার হোসেন, উম্মে কুলসুম ঝুমু, অভিনেত্রী সিফাত নুসরাত এবং অধ্যাপক রোকেয়া বেগম। এছাড়াও সাহিত্য, প্রকাশনা ও শিল্প-সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য আরও বেশ কয়েকজন গুণী লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও প্রচ্ছদশিল্পীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত লেখক ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠসৈনিক ডা. অরূপরতন চৌধুরী, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক জামসেদ ওয়াজেদ, বীজবিস্তার ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. এম. এ. সোবহান এবং দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার প্রকাশক ও সম্পাদক অশোক ধর। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করে।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, সাহিত্য একটি জাতির মনন ও সংস্কৃতির দর্পণ। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটে। তাঁরা নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করে তুলতে এবং সাহিত্যচর্চার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তারের কারণে বই পড়ার অভ্যাস কিছুটা কমে গেলেও সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই। একটি সুস্থ, মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন নবীন ও প্রবীণ লেখকদের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার পাশাপাশি সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লেখক, কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, পাঠক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক প্রাণময় সাহিত্যিক সম্মিলনে। সম্মাননা প্রদান, সাহিত্যভাবনার আদান-প্রদান, বই ও প্রকাশনা নিয়ে আলোচনা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ আড্ডায় মুখর ছিল পুরো আয়োজন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে রয়েল পাবলিকেশনের প্রকাশক মো. মনিরুল ইসলাম (রয়েল) বলেন, “সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের মেধাবী ও প্রতিশ্রুতিশীল লেখকদের উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতেও রয়েল পাবলিকেশনের এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। নতুন লেখকদের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।”
সাহিত্যপ্রেমীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও গুণীজনদের অংশগ্রহণে ‘রয়েল সাহিত্য সম্মাননা–২০২৬’ হয়ে ওঠে এক স্মরণীয়, তাৎপর্যপূর্ণ ও অনুপ্রেরণাদায়ী আয়োজন।











