উত্তরের আলো

চলন্ত ট্রেনের কোচ থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরি,বাতি-ফ্যান বন্ধ হয়ে অন্ধকারে যাত্রীরা

চলন্ত ট্রেনের কোচ থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরি,বাতি-ফ্যান বন্ধ হয়ে অন্ধকারে যাত্রীরা

অনলাইন ডেস্ক: কুড়িগ্রামের চিলমারী থেকে রংপুরগামী রমনা কমিউটার ট্রেনের একটি কোচ থেকে বাতি ও ফ্যানের সার্কিটের বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগ উঠেছে। তার চুরি যাওয়ায় রাতে কোচটির বাতি ও ফ্যান বন্ধ হয়ে যায়। এতে অন্ধকার ও গরমের মধ্যে যাত্রা করতে হয় যাত্রীদের। একই সঙ্গে ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর উলিপুর রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে বালাবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। চুরি হওয়া কোচটির নম্বর ৭০৩২।

ট্রেনের যাত্রীরা জানান, উলিপুর রেলওয়ে স্টেশন অতিক্রম করার পর হঠাৎ কোচের বাতি ও ফ্যান বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে তারা এটিকে যান্ত্রিক ত্রুটি বলে মনে করেন। পরে ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কোচের বাতি ও ফ্যানের সার্কিটের বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে।

যাত্রী নিয়ামত আলী বলেন, ‘হঠাৎ পুরো কোচের বাতি ও ফ্যান বন্ধ হয়ে যায়। পরে ট্রেনের দায়িত্বে থাকা লোকজন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কোচের তার চুরি হয়েছে। এরপর অন্ধকার ও গরমের মধ্যেই আমাদের থাকতে হয়েছে।’

আরেক যাত্রী কফিল উদ্দিন বলেন, হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে তারা তার চুরির বিষয়টি জানতে পারেন।

স্থানীয় ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পার্বতীপুর থেকে রমনার উদ্দেশে ছেড়ে আসা রমনা কমিউটার ট্রেনের ৭০৩২ নম্বর কোচে এ ঘটনা ঘটে। উলিপুর স্টেশনের অদূরে বালাবাড়ী এলাকায় কোচের বাতি ও ফ্যানের সার্কিটের তার চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কখন বা কীভাবে তারগুলো চুরি করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উলিপুর রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্বে থাকা শিউলি বেগম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি কিছু জানি না। ২৭ সেপ্টেম্বর রমনা কমিউটার ট্রেনে দায়িত্বে থাকা পরিচালক এ বিষয়ে বলতে পারবেন।’

উলিপুর স্টেশনের ইনচার্জ আবিদ বলেন, তিনি সেখানে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর মূল দায়িত্ব পীরগাছায়। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন না।

২৭ সেপ্টেম্বর ট্রেনে দায়িত্বে থাকা পরিচালক অজিত রায় বলেন, তিনি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেউ তাঁকে বিষয়টি জানাননি এবং কোনো অভিযোগও করেননি। পাওয়ার কার থেকে তাঁকে জানানো না হলে তিনি কীভাবে বিষয়টি জানবেন—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ট্রেনে ইলেকট্রিশিয়ান থাকেন এবং এ ধরনের বিষয় সাধারণত তিনিই দেখেন।

এদিকে কুড়িগ্রাম-রমনা রেলপথের নিরাপত্তা নিয়েও এর আগে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রেললাইনে পাথর দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সেসব পাথর বস্তায় করে স্থানীয় লোকজন বাড়িতে নিয়ে যান। রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার এমন অভিযোগের মধ্যেই এবার চলন্ত ট্রেনের কোচ থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটল।

রেলওয়ের নিরাপত্তা নিয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের কমান্ড্যান্ট ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রেলওয়ের নিরাপত্তায় লোকবল সংকট রয়েছে। এ কারণে ওই ট্রেনে আমরা নিরাপত্তাকর্মী দিতে পারিনি। সামনে নিয়োগ হলে লোকবল পাওয়া গেলে নিরাপত্তাকর্মী দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, কোচ থেকে তার চুরির বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়নি।

চলন্ত ট্রেনের কোচ থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যাত্রীদের দাবি, রেলওয়ের সম্পদ চুরি ও রেলপথের উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ট্রেনে নিরাপত্তা জোরদার করা হোক।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, রমনা কমিউটার বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়মিত কমিউটার ট্রেনগুলোর একটি। ট্রেনটি কুড়িগ্রামের চিলমারীর রমনা বাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। এ পথে রমনা বাজার, বালাবাড়ী, উলিপুর, পাঁচপীর, পুরাতন কুড়িগ্রাম, কুড়িগ্রাম, রাজারহাট, তিস্তা জংশন ও কাউনিয়াসহ বিভিন্ন স্টেশন রয়েছে।

শেয়ার: