উত্তরের আলো

মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত রুয়েট শিক্ষার্থী রাফিদকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠাল প্রশাসন

মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত রুয়েট শিক্ষার্থী রাফিদকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠাল প্রশাসন

শেখ সিয়াম আব্দুল্লাহ,রুয়েট প্রতিনিধি:রাজশাহীর বিনোদপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থী রাফিদ শাহরিয়ারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রাফিদ রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বিনোদপুর বাজারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন রাফিদ। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল হঠাৎ ইউ-টার্ন নেওয়ার সময় সেটিকে পাশ কাটিয়ে যেতে গিয়ে রাফিদ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে তার মাথা সড়কের ডিভাইডারে সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সাময়িকভাবে তাকে অপারেশন থিয়েটারেও নেওয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার সকালে রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে গিয়ে রাফিদের চিকিৎসার খোঁজ নেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন, মাথায় তীব্র আঘাতের কারণে রাফিদের মস্তিষ্কে রক্ত জমেছে। উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য দ্রুত তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

পরিস্থিতি বিবেচনায় রুয়েট প্রশাসনের উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন এবং ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফ এ উদ্যোগে সমন্বয় করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের বুকিং বাবদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

রুয়েট প্রশাসন জানায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে রাফিদকে নিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ত্যাগ করে।

রাফিদের চিকিৎসার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “রাফিদের দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা তার চিকিৎসার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। রাতে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করানো থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে রক্ত জমেছে। উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার রাজশাহীতে সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকায় নেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “রাফিদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তার এই সংকটময় সময়ে রুয়েট প্রশাসন তার পাশে আছে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সে দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। রাফিদের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থী।”

দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে থাকা রুয়েটের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সিএমই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. হিমেল ইসলাম বলেন, “বিনোদপুর বাজারে হঠাৎ একটি শব্দ শুনে আমরা সচেতন হই। পরে গিয়ে দুর্ঘটনার বিষয়টি জানতে পারি। এরপর আমরা রাফিদ ভাইকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। বর্তমানে তার অবস্থা অবনতির দিকে রয়েছে বলে জানতে পেরেছি।”

এদিকে রাফিদের চিকিৎসার ব্যয় বহনে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চিকিৎসা তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বুধবার থেকে ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ২ লাখ টাকার বেশি সংগ্রহ হয়েছে। পরবর্তী চিকিৎসায় আরও প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানা গেছে।

রাফিদের দ্রুত সুস্থতার জন্য রুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।

শেয়ার: