আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম: ১৫ জুন ২০২৬ , ৫:০৩ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে‘রেডি টু কুক ফিস’ বা রান্নার উপযোগী প্রস্তুত মাছ বিক্রয় কার্যক্রম। দেশীয় প্রজাতির মাছ কেটে, পরিষ্কার করে ও প্যাকেটজাত অবস্থায় বাজার দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সময় ও শ্রম সাশ্রয় হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার রাজারহাট উপজেলার রেলস্টেশন এলাকায় ‘জান্নাতি ফ্রেশ অ্যান্ড ফ্রোজেন মৎস্যপণ্য বিক্রয় কেন্দ্র’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগ চালু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু মিয়া ও তার স্ত্রী পেয়ারা বেগম যৌথভাবে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
প্রতিষ্ঠানটিতে মলা, দারকিনা, পুঁটি, ট্যাংরা, শিং, মাগুর, চাপিলা, খলিসা, টাকি-সহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ কেটে, ধুয়ে ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্যাকেটজাত করে হিমায়িত অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়। পরে বাজারমূল্যে এসব মাছ বিক্রি করা হয়। এছাড়া অনলাইন অর্ডার ও হোম ডেলিভারির ব্যবস্থাও রয়েছে।
উদ্যোক্তা বাবলু মিয়া জানান, আগে তিনি খাদ্যগুদামে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বয়সজনিত কারণে ভারী কাজ করতে না পারায় বিকল্প কর্মসংস্থানের কথা ভাবেন। পরে আরডিআরএস বাংলাদেশের সহায়তায় প্রায় দুই মাস আগে এই ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ কেজি দেশীয় মাছ বিক্রি হচ্ছে।
পেয়ারা বেগম বলেন, “প্রতিদিন বিভিন্ন বাজার থেকে দেশীয় মাছ সংগ্রহ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে প্রক্রিয়াজাত করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করি। সীমিত লাভে বাজারদরেই মাছ বিক্রি করা হয়।”
ক্রেতাদের মতে, কর্মব্যস্ত জীবনে ছোট মাছ পরিষ্কার করা অনেকের জন্য ঝামেলার বিষয়। ফলে ইচ্ছা থাকলেও অনেকে দেশীয় ছোট মাছ কিনতে আগ্রহী হন না। প্রস্তুত অবস্থায় এসব মাছ পাওয়ায় তারা সহজেই কিনে বাড়িতে নিয়ে রান্না করতে পারছেন।
ক্রেতা সাদেক আলী বলেন, “ছোট মাছ পরিষ্কার করতে অনেক সময় লাগে। এখানে পরিষ্কার ও প্রস্তুত অবস্থায় মাছ পাওয়া যায়, তাই কেনা সহজ হয়েছে।”
বুলবুলি বেগম বলেন, “দেশীয় মাছ খেতে ভালো লাগে, কিন্তু পরিষ্কার করা কষ্টকর। এখন সহজেই কিনে রান্না করা যায়।”
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট জাতের দেশীয় মাছ ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ফ্যাটি অ্যাসিড, আয়রন ও ফসফরাসসহ নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। বাজারে বড় মাছ কাটার ব্যবস্থা থাকলেও ছোট মাছ প্রস্তুত করার ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই এসব মাছ কেনা এড়িয়ে যান। ফলে ‘রেডি টু কুক ফিস’ উদ্যোগটি পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরডিআরএস বাংলাদেশের মৎস্য টেকনিক্যাল অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, “পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও আরডিআরএস বাংলাদেশের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং নারীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে। জেলায় প্রথমবার এ উদ্যোগ চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য উপজেলাতেও এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।”
রাজারহাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, “মৎস্য বিভাগ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় মৎস্য খাতের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”





