কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ১৪ জুন ২০২৬ , ১:৪৩ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও বন্ধুরচর সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীরাও সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৪ জুন) ভোর ৬টার দিকে ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের নিকটবর্তী গয়টাপাড়া বংশিরচর বটতলা সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। তাদের মধ্যে ৩ জন যুবক, ১ জন নারী এবং ২ জন শিশু রয়েছে। একই সময়ে বন্ধুরচর সীমান্ত দিয়েও আরও ৩ জন পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সীমান্তে জড়ো করা ব্যক্তিদের বিষয়ে বিএসএফ দাবি করেছে তারা ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কাংশী গ্রামের বাসিন্দা। তবে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল ও নজরদারি বাড়ান। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন। ফলে পুশইনের প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপতৎপরতা প্রতিরোধে আমাদের টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সবসময় তৎপর রয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রৌমারী সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে বিজিবির তৎপরতা এবং সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের সচেতন ভূমিকার কারণে এসব প্রচেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে।
বর্তমানে গয়টাপাড়া ও বন্ধুরচর সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।











