রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ১২ জুন ২০২৬ , ১২:১৫ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা সদরের শাপলা মোড় (ভোলা মোড়) এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। শুক্রবার (১২ জুন) ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরবেলায় বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। এ সময় হঠাৎ একটি দোকানে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন ধোঁয়া দেখে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডে সালমান মেডিক্যাল হল, আকবর হোসেনের মুদি দোকান, রুহুল আমিনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, আব্দুর রউফের দোকান, ফজলুল হকের দোকান, আনিসের দোকান এবং নাহিদ কম্পিউটার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। এছাড়া আগুন নেভাতে ব্যবহৃত পানিতে ব্রাদার্স ফার্মেসির বিপুল পরিমাণ ওষুধ নষ্ট হয়ে যায় এবং রাজা মিয়ার ওষুধের দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আব্বাস আলী বলেন, “দোকানে বিপুল পরিমাণ ওষুধ ও মালামাল ছিল। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে কিছুই সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাইনি। চোখের সামনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাজারে তখন মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এলেও দোকান থেকে মালামাল বের করার সুযোগ পাননি।
খবর পেয়ে কত্তিমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহাজাদা বলেন, “সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি। এলাকায় পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।”
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।











