বিবিধ

শিকলে বন্দী আকাশ—ভালো চিকিৎসা পেলে ফিরতে পারে পড়ার টেবিলে

  চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৫:৪০ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

মাত্র ১৭ বছর বয়সের আকাশের এখন বই-খাতা নিয়ে পড়াশোনায় মগ্ন থাকার কথা। বিকেল হলে মাঠে দৌড়ঝাঁপ করার সময়। কিন্তু মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আকাশ এখন শিকলে বন্দী হয়ে ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছে। পরিবার বলছে, সঠিক চিকিৎসা পেলে আকাশ আবারো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। ইতিমধ্যেই উপজেলা প্রশাসন তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের আশ্বাস দিয়েছে।

আকাশ কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার পশ্চিম খরখরিয়া গ্রামের সাজু মিয়া ও আকলিমা দম্পতির ছেলে। প্রায় দুই বছর আগে তার মানসিক অসুস্থতা দেখা দেয়। মাঝে মাঝে সে হারিয়ে যেত—অনেক খোঁজাখুঁজির পর ফিরিয়ে আনা হতো। অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা হয়নি। কখনো স্বাভাবিক, কখনো অস্বাভাবিক আচরণের পর গত তিন মাস ধরে লোহার শিকলে বেঁধে রাখতে বাধ্য হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এর আগে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হলে পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, ছোটবেলা থেকে আকাশকে ভালো ও শান্ত স্বভাবের ছেলে হিসেবে জানতেন তারা। মানসিক অসুস্থতা শুরু হলে পরিবারকে যতটা সম্ভব সাহায্য করেছেন। মুকুল মিয়া নামে এক প্রতিবেশী বলেন, “ছেলেটা এমনিতে খুব ভালো। ওর বাবা দিনমজুর—খাবার জোগাড় করতেই কষ্ট হয়। চিকিৎসার খরচ তো অনেক দূরের কথা। ভালো চিকিৎসা পেলে আকাশ অবশ্যই সুস্থ হয়ে উঠবে।”

আকাশ নিজেও জানায়, সে সুস্থ হয়ে আবার পড়াশোনা শুরু করতে চায়। এজন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছে সে।

আকাশের মা আকলিমা বলেন, “ছেলের মাথার সমস্যা, ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলে, ক্ষতি করার চেষ্টা করে। তাই বাধ্য হয়েই শিকলে বেঁধে রাখতে হচ্ছে।” তার বাবা সাজু মিয়া জানান, “দিনমজুরির কাজ করে এতদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছি। সংসার চালানোই কষ্টকর। যদি ভালো জায়গায় চিকিৎসা করাতে পারি, আমার ছেলে আবার আগের মতো হয়ে উঠবে। বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চাই।”

চিলমারী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার (অ.দা) নাজমুল হাসান জানান, আকাশকে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়া হবে এবং মাসিক চিকিৎসা ব্যয়ভার উপজেলা প্রশাসন বহন করবে।