রাবি প্রতিনিধি: ১০ আগস্ট ২০২৫ , ৯:৫৫ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বুদ্ধিজীবী চত্বরে “আঠারো হতে চব্বিশ কোটা সংস্কার হতে রাষ্ট্রসংস্কার” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১০ আগস্ট) বিকেলে শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে এ আলোচনা সভা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্র অধিকার পরিষদ গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথে এগিয়ে চলেছে। ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রাকসু, চাকসু, জাকসু ও ঢাকসুর নেতারা অগ্রণী ভূমিকা রেখে জাতিকে স্বৈরশাসকের হাত থেকে মুক্ত করেছিলেন। কিন্তু ১৯৯০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ক্ষমতায় আসা কেউই ছাত্র নেতৃত্ব বিকাশে উদ্যোগ নেয়নি; বরং নিজেদের স্বার্থে ছাত্রদের লাঠিওয়ালা বাহিনীতে পরিণত করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, মেধাবীদের পরিবর্তে গুণ্ডা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত করায় তরুণদের কাছে ছাত্র রাজনীতি এখন ঘৃণিত হয়ে উঠেছে।
নুর আরও বলেন, ইতিহাসে বিরল যে প্রচণ্ড কর্তৃত্ববাদী শাসনের মধ্যেও এত দ্রুত একটি ছাত্র সংগঠন বড় রাজনৈতিক দলে রূপ নিতে পেরেছে। ক্ষমতায় থেকে বহু ‘কিংস পার্টি’ তৈরি হলেও ছাত্র অধিকার পরিষদ ব্যতিক্রম। কারণ তারা কোনো নির্দিষ্ট আদর্শিক বা ধর্মভিত্তিক নয়; বরং উদারপন্থী রাজনৈতিক ধারায় বিশ্বাসী।
আলোচনা সভায় ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সমন্বয়ক নাজমুল হাসান বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যখন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নেমেছে। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে রাবিতে গড়ে ওঠা গণজোয়ার তার প্রমাণ।
রাবি শাখা সভাপতি মেহেদী মারুফ বলেন, অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারের নামে শুধু রূপরেখা দিচ্ছে, কিন্তু কার্যকর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান নয়। শিক্ষা খাতেও বরাদ্দ অপ্রতুল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রাবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ এবং সঞ্চালনা করেন শাখার সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়া শুভ। এ সময় আরও বক্তব্য দেন ১৮-এর কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক মাসুদ মোন্নাফ, রাবি শাখার সাবেক সভাপতি নাঈমুল ইসলাম নাইম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিফুল ইসলাম সোহান এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রোকেয়া জাবেদ মায়া।











