উত্তরের আলো

৩৮ বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতু, দুর্ভোগে ৮ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ

৩৮ বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতু, দুর্ভোগে ৮ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ

মাদারগঞ্জ(জামালপুর)সংবাদদাতা:জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ থেকে জোনাইল ফকিরবাড়ীসংলগ্ন ভুরভুরা বিলের ওপর থাকা সেতুটি ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যায়। এরপর কেটে গেছে ৩৮ বছর। কিন্তু এখনো সেখানে নতুন করে কোনো সেতু নির্মাণ হয়নি। ফলে অন্তত আট গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকে ব্যবহৃত ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সেতুটি ১৯৮৮ সালের বন্যায় পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেতুটি পুনর্নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। এতে মোসলেমাবাদ, উত্তর জোরখালী, চরবন্দ, নিশ্চিন্তপুর, কাতলামারী, জাঙ্গালিয়া, সিংদহ ও গুনারীতলাসহ আশপাশের গ্রামের মানুষকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেতুটি না থাকায় প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষকে প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি, এই সড়কের ওপর নির্ভর করে প্রতিদিন কয়েকশ শিক্ষার্থী জোনাইল উচ্চ বিদ্যালয়, বালিজুড়ী এফএম উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। সেতু না থাকায় অনেক সময় তাদের ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আকাশ মণ্ডল বলেন, একসময় সড়কটি ব্রিটিশ আমলের গুরুত্বপূর্ণ সি অ্যান্ড বি সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। মাদারগঞ্জ থেকে জামালপুর যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ ছিল এটি। পরবর্তী সময়ে সেখানে একটি কংক্রিটের সেতুও নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে সেটিও এখন মাটির নিচে চাপা পড়ে গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ভুরভুরা বিলের ওপর দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হলে ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, সেতুটি নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রধান কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

শেয়ার: