চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ৪ মে ২০২৬ , ৮:০২ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
রেলপথ সংস্কারে চরম ধীরগতি, চিলমারীতে মানববন্ধন
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
নির্ধারিত সময়সীমা একাধিকবার অতিক্রম করেও কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে চিলমারীর রমনা রেলস্টেশন পর্যন্ত রেলপথ সংস্কারকাজ শেষ হয়নি। কাজের চরম ধীরগতি, অনিয়ম ও তদারকির অভাবের প্রতিবাদে রমনা রেলস্টেশন এলাকায় মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রী ও এলাকাবাসী। সোমবার (৪ মে) দুপুরে রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথ সংস্কারকাজ শুরুর নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৩ সালের নভেম্বর। প্রাথমিকভাবে ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুন এবং সর্বশেষ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। তবে সময় বাড়ানো হলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রেললাইনের বিভিন্ন অংশে এখনো পর্যাপ্ত ব্যালাস্ট (পাথর) ফেলা হয়নি এবং পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ স্লিপারগুলোই ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্র্যাক মজবুতকরণের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে ট্রেন চলাচলের গতি ঘণ্টায় মাত্র ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বহুগুণে বেড়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি, নিম্নমানের কাজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুর্বল তদারকির কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়েছে। এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সাধারণ মানুষ কোনো সুফল পাচ্ছেন না। তারা জানান, গত কয়েক বছরে এই রুটে একাধিকবার ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নাহিদ হাসান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ হোসেন পাখী, উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব আবু হানিফা এবং রমনা ইউনিয়ন কমিটির সদস্য সচিব সোহানুর রহমান প্রমুখ।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত রেললাইনে ব্যালাস্ট ফেলা, ঝুঁকিপূর্ণ স্লিপার প্রতিস্থাপন এবং ট্র্যাক মজবুত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি রমনা রেলস্টেশন আধুনিকায়ন ও এই রুটে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধির দাবিও তোলা হয়। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
যাত্রীদের ভাষ্য, ধীরগতির ট্রেন চলাচলের কারণে যাতায়াতে সময় ও খরচ—দুটিই বেড়েছে। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ তসলিম আহমেদ খানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।





