আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ৮ অক্টোবর ২০২৫ , ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
গাজার অবরোধ ভাঙার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা করা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের (এফএফসি) অংশ ‘কনশেনস’ নামের জাহাজ বর্তমানে সমুদ্রে আটকা পড়েছে বলে জানা গেছে। ওই নৌবহরে রয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলোকচিত্রী, লেখক ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম। তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, তাঁকে ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী অপহরণ করেছে।
ভিডিও বার্তায় শহিদুল আলম বলেন, “যদি আপনি এই ভিডিওটি দেখছেন, তাহলে বুঝবেন— আমরা সমুদ্রে আটকা পড়েছি। আমাকে অপহরণ করেছে ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী। যারা গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে আমেরিকা এবং অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সক্রিয় সহযোগিতা ও সহায়তায়। আমি আমার সব সহযোদ্ধা ও বন্ধুদের আহ্বান জানাচ্ছি, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যান।”
এই বক্তব্য প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো কনশেনস নৌবহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে, গতকাল (৭ অক্টোবর) শহিদুল আলম তাঁর ফেসবুক পোস্টে জানান, কনশেনস হলো ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের একটি অংশ। এতে মূলত সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রয়েছেন। কারণ, ইসরায়েল গত এক বছরে এই দুই শ্রেণির পেশাজীবীদের বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করে হত্যা করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। তিনি লিখেছিলেন,“এই যাত্রা গাজার অবৈধ অবরোধ ও চলমান গণহত্যাকে চ্যালেঞ্জ করে। সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হত্যার প্রতিবাদ জানাতেই আমরা এই যাত্রায় অংশ নিয়েছি।”
পোস্টে শহিদুল আলম আরও উল্লেখ করেন, ভোরে তাঁদের “রেড জোন” এলাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল — যেখানে অতীতে ইসরায়েলি সেনারা ফ্লোটিলাগুলোকে অবৈধভাবে আটকে রেখেছিল।
ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (FFC) হলো একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা, যারা দীর্ঘদিন ধরে গাজার ওপর আরোপিত ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে সমুদ্রপথে অভিযান চালাচ্ছে। এসব নৌবহরে সাধারণত সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবকরা মানবিক সহায়তা নিয়ে গাজামুখী যাত্রা করেন।
২০১০ সালে “মাভি মারমারা” ফ্লোটিলায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১০ জন শান্তিকর্মী নিহত হওয়ার পর থেকে এ ধরনের যাত্রাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ নজরে আসে।
বর্তমানে কনশেনস নৌবহরের অবস্থান বা যাত্রীদের নিরাপত্তা সম্পর্কে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। শহিদুল আলমের ভিডিওটি প্রকাশের পর তাঁর সহযোগী ও শুভানুধ্যায়ীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং তাঁর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কামনা করছেন।










