রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ১২ জুলাই ২০২৬ , ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু। অথচ সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সেই সেতু এখন স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়ারবাড়ি গ্রামসংলগ্ন খালের ওপর নির্মিত ৯৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণের পরও সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। বর্ষার টানা বৃষ্টিতে সেতুর দুই প্রান্তের রাস্তা ভেঙে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়কের মাটি ধসে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও রাস্তার বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। এতে ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন, আর যারা এই পথেই চলাচল করছেন তাদের প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় প্রয়োজনীয় প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ করা হয়নি। একই সঙ্গে সংযোগ সড়কে টেকসইভাবে মাটি ভরাটের কাজও করা হয়নি। ফলে সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে রাস্তার মাটি ধসে গিয়ে সেতুর দুই মাথায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মামুন মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রটেকশন ওয়াল না দিয়ে এবং সঠিকভাবে মাটি ভরাট না করায় সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সেতুর দুই মাথায় বড় বড় গর্ত হয়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। গত সপ্তাহে এক বৃদ্ধ গর্তে পড়ে পা ভেঙেছেন। এত বড় সমস্যা দেখার কি কেউ নাই?”
আরেক বাসিন্দা সাজেদুল ইসলাম বলেন, “সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে আমরা সেটি ব্যবহার করতে পারছি না। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
স্থানীয় মহিদুল ইসলাম বলেন, “কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু মানুষ যদি সেটি ব্যবহারই করতে না পারে, তাহলে এই উন্নয়নের সুফল কোথায়? দ্রুত টেকসই সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হলে আরও দুর্ঘটনা ঘটবে।”
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে জরুরি ভিত্তিতে সেতুর দুই প্রান্তে প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ এবং টেকসইভাবে সংযোগ সড়ক সংস্কার করা হোক। অন্যথায় সরকারি অর্থে নির্মিত এই সেতু জনসাধারণের কোনো কাজে আসবে না।
এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী জাকির আলম বলেন, সংযোগ সড়কের কাজে জমি-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু যদি নিরাপদে ব্যবহারই করা না যায়, তাহলে এমন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকৃত সুফল জনগণ কবে পাবে?











