বিবিধ

স্ত্রীর জানাজায় যেতে পারেননি বৃদ্ধ স্বামী,পুলিশের হস্তক্ষেপে কবর জিয়ারত

  আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম: ৪ জুন ২০২৬ , ৯:২২ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

Oplus_16908288

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় তিন বছর ধরে এক বৃদ্ধ বাবাকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে তারই বড় ছেলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, স্ত্রীর মৃত্যুর পর শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকেও ওই বৃদ্ধকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর স্ত্রীর কবর জিয়ারত করতে পারেন তিনি।
হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের নাককাটি গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাককাটি গ্রামের আব্দুল জলিল (৭৫) ও মাহমুদা বেগম (৬৫) দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেলেও বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ (৪৬) এলাকায় কৃষিকাজ করেন এবং ছোট ছেলে মোস্তফা (৩৫) বরগুনা জেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ছোট ছেলে কর্মস্থলে থাকার সুযোগে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ প্রায় ১৪ একর জমি বাবার কাছ থেকে নিজের নামে লিখে নেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগেও বাধা দেন।
এদিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে মাহমুদা বেগমের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তার মেয়েরা। বড় মেয়ে পারভিনা বেগম রমজানের পর মাকে রংপুরে হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে দ্বিতীয় মেয়ে রনজিনা বেগম তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩১ মে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে বাড়িতে নেওয়ার পর গত ৩ জুন রাতে তিনি মারা যান।
পরদিন সকালে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। একইসঙ্গে তিনি বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে স্ত্রীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে দেননি বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।
এ অবস্থায় স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়। খবর পেয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কফিল উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, স্থানীয় কলেজের অধ্যক্ষ, ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাজু মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ওসি মামুনুর রশীদের উদ্যোগে উপস্থিত সবার সঙ্গে আলোচনা করে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা আব্দুল জলিলকে ঘর থেকে বের করা হয়। দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর তিনি তার প্রয়াত স্ত্রী মাহমুদা বেগমের কবর জিয়ারত করেন।
রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, “জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বৃদ্ধ বাবাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া স্ত্রীর মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে না দেওয়ার বিষয়টিও জানা যায়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি এমন আচরণের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।