ইরিন জামান খান প্রান্তি,রাবি প্রতিনিধি: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১:১৬ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পোষ্য কোটা চালু করার প্রতিবাদে অনশন কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই এ কর্মসূচি চালু করে তারা। রাত গড়িয়ে দুপুর হলেও এখনো চলমান রেখেছে তাদের অনশন কর্মসূচি।
রাকসু নির্বাচনে কার্যনির্বাহী পদপ্রার্থী আরিফুর রহমান বলেন- “আমরা সারারাত এখানে মশার কামড় খেয়েছি, প্রশাসন থেকে কেউ আসে নাই। এখন আসছে এখানে সামিয়ানা টাঙাতে। আমরা মরে গেলেও এখনে কোনো সামিয়ানা বা ফ্যান টানাতে দিব না।”
তখন উপস্থিত ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, ‘বিষয়টি কোর্টে বিচারাধীন। রায় না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা যদি অপেক্ষা করে, তবে যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এখনই প্রশাসন কোনো সিদ্ধান্ত দিলে তা একপক্ষের পক্ষে চলে যাবে, যা অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে।’
এর আগে, গতবৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটায় দলে দলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হতে থাকে ছাত্র দল, ছাত্র শিবিরসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ‘ ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে,পোষ্য কোটা কবর দে ‘ স্লোগানে বৃষ্টিতে ভিজেও অবস্থান কর্মসূচিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনড় অবস্থানে ছিল শিক্ষার্থীরা।
ঐ কর্মসূচিতে অবস্থানরত রাবি শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি এবং আসন্ন রাকসু নির্বাচনের ভিপি (সহ- সভাপতি) পদপ্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন-“ক্যাম্পাসের রাকসু বানচালকারী খুবই সক্রিয়। যখন তারা দেখছে রাকসু নির্বাচন হয়েই যাচ্ছে তখন তারা একটি সম্পূর্ণ মীমাংসিত ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসছে যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা- কর্মচারী ত্রিমুখী অবস্থান করছে।”
এছাড়াও তিনি সকলকে সাবধান থাকার আহ্বান জানান, পোষ্য কোটা পুনরায় ফিরিয়ে না আনার সাথে ২৫ সেপ্টেম্বরই রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার দাবি জানান।
এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাবি সাবেক সমন্বয় ফাহিম রেজা জানান – ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা’ বা অন্য যে নামেই পোষ্য কোটাকে ডাকা হোক না কেন তা পোষ্য কোটা।
মূলত গত, ১৭ সেপ্টেম্বর পোষ্য কোটা বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় ১৮- ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পোষ্য কোটা পুনরায় চালু না করলে পূর্ণ কর্মবিরতিতে যাবেন তারা । তারই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা’ নামে পুনরায় এই কোটা বহালের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রাকসু নির্বাচনের মুখোমুখি সময়ে বাতিল হওয়া এই কোটা পুনরায় চালু হওয়ার ব্যাপারটিকে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই রাকসু বানচাল কারা চক্রান্তের অংশ বলে মনে করছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী সোমবার থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে প্রচার কার্যক্রম। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা শেষে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ঘোষণা করা হবে চূড়ান্ত ফলাফল।











