আতাউর রহমান,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ২৫ জুন ২০২৬ , ১:২০ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
উজানের পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে গত চার দিন ধরে কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে ওঠানামা করছে। তবে গত রাত থেকে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আজ নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। প্রতিটি নদীর পানি ৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের অন্তত ৩০টি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে বসতভিটা, গাছপালা, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। অন্যদিকে, নদী তীরবর্তী এলাকার বিভিন্ন ফসলের মাঠ এখনও পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক জমশেদ আলী জানান, তাঁর এক বিঘা জমির পটলক্ষেত ধরলা নদের পানিতে তলিয়ে আছে। দ্রুত পানি না নামলে তাঁর পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওই এলাকার অনেক কৃষকের বিভিন্ন ধরনের ফসল এখনও পানির নিচে রয়েছে।
বিভিন্ন ফসল তলিয়ে থাকায় কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, পানি দ্রুত নেমে গেলে নিমজ্জিত ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না। পানি সরে যাওয়ার পর কৃষকদের ফসলের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম জানান, গতকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে বন্যার আশঙ্কাও অনেকটাই কমেছে। স্থানীয়ভাবে নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে আর বন্যার সম্ভাবনা নেই।
তবে তিনি স্বীকার করেন, জরুরি বরাদ্দ না পাওয়ায় ভাঙনকবলিত সব এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কাজ যথাযথভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না।










