আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম: ৪ জুন ২০২৬ , ৯:১৮ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
টানা সাতদিন ধরে কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে। তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া বিভাগে ১২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এছাড়া গরমের পাশাপাশি বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটছে। বুধবার ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে নাগেশ্বরী উপজেলায় বজ্রপাতে দুটি গরু মারা গেছে।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত সাতদিনে এ অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৫ দশমিক ৫ থেকে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই তাপদাহ আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
তাপদাহে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। শহরের ছিন্নমূল ও দিনমজুররা জানান, কাজের সন্ধানে সকালে বের হলেও প্রচণ্ড গরমের কারণে দীর্ঘ সময় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তাদের আয়-রোজগারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শহরবাসীর অনেকেই জানান, তীব্র গরমে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। দুপুরের পর শহরের সড়কগুলো প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে চায় না। পথচারীদের চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এদিকে হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ডায়রিয়া, জ্বর, পানিশূন্যতাসহ গরমজনিত নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, বেশি করে পানি পান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।











