ইরিন জামান খান প্রান্তি,রাবি প্রতিনিধি: ১৫ নভেম্বর ২০২৫ , ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যশোর জেলা সমিতির (কপোতাক্ষ) নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে এবং ২০১৯-২০ সেশনের প্রবীণদের বিদায় দিতে এ আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার দুপুর ৩টায় শহীদ শুখরঞ্জন সামদ্দার স্টুডেন্টস-টিচার্স কালচারাল সেন্টারে (টিএসসিসি) এক জমকালো আয়োজনে বরণ করে নেওয়া হয় নবীন শিক্ষার্থীদের। এ আয়োজন চলে রাত আনুমানিক ১০টা পর্যন্ত।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর নবীন শিক্ষার্থীদের ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ প্রবীণদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।
যশোর জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন বলেন,“নবীনবরণ অনুষ্ঠান আমাদের পরিবারের এক মিলনমেলা। এ বছর আমরা সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও পরিশ্রমে অনেক বড় পরিসরে এই আয়োজন সম্পন্ন করেছি। যশোর জেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য, বন্ধন ও সহমর্মিতা গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। নতুন শিক্ষার্থীরা যেন শুধু নিজেদের একাডেমিক ক্ষেত্রেই নয়, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও সমাজসেবায়ও অবদান রাখে—এই প্রত্যাশা রাখি। সমিতি সবসময় তাদের পাশে থাকবে। ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা পেলে আমরা আরও বড় ও সমৃদ্ধ আয়োজন করতে পারব।”
যশোর জেলা সমিতির সভাপতি মেহেদী হাসান (সাগর) বলেন,“নবীনবরণ আমাদের জন্য শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি যশোর জেলার শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার একটি উদ্যোগ। এ বছর আমরা সদস্যদের সহযোগিতা, সিনিয়রদের দিকনির্দেশনা ও নবীনদের উৎসাহে একটি সফল অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পেরেছি। এটি আমাদের ঐক্যের প্রতিফলন।”
তিনি আশাও ব্যক্ত করেন যে, এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তারা ভবিষ্যতে আরও বড়, সৃজনশীল ও অনুপ্রেরণামূলক আয়োজন করতে পারবে এবং যশোর জেলা সমিতি সবসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে যশোরের গৌরবকে ধরে রাখতে কাজ করে যাবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন,
“আমি কুষ্টিয়ার মানুষ তবে আমি মনস্তাত্ত্বিকভাবে যশোরের। ছোটবেলায় আমি যশোর চিনেছিলাম মনিহার সিনেমা হল দেখে। যখন একটু বড় হলাম তখন কপোতাক্ষ নদ আর ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ সম্পর্কে জেনেছি। আমি অনেক যশোরের মানুষের সাথে মিশেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে তারা অনেক সাহসী, স্মার্ট এবং বুদ্ধিমান। তাদের মধ্যে স্বজনপ্রীতিও কম। এতজন যশোরের মানুষের মধ্যে এসে ভালো লাগছে। যশোরিয়ান সবার জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি।”
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মো. সোহেল হাসান এবং রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের জেলা ও দায়রা জজ মো. মহিদুজ্জামান। এছাড়াও রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শাহাব উদ্দীন, কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) দীন মোহাম্মদ ও সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
নাচ-গানসহ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং নবীন–প্রবীণের পরিচয়-গল্পের মাধ্যমে যেন এক টুকরো যশোর জেগে উঠেছিল রাবি’র অঙ্গনে।











