অপরাধ

রৌমারী-ঢাকা দূরপাল্লার বাসে চাঁদাবাজির অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ায় গাড়ি আটক

  স্টাফ রিপোর্টার: ৫ এপ্রিল ২০২৬ , ১:৪৬ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

রৌমারী-ঢাকা রুটে দূরপাল্লার বাসগুলোতে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিনের চাঁদার পাশাপাশি নতুন গাড়ি নামালেই দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। চাঁদা না দিলে গাড়ি ও কাউন্টার—দুটিই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। রৌমারী বাস শ্রমিক সংগঠনের নামে এসব চাঁদা আদায় করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র—এমন অভিযোগ তুলেছেন আব্দুল মতিন নামের একজন বাস মালিক। তিনি রৌমারী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী শাওন পরিবহনের মালিক।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রৌমারী শ্রমিক সংগঠনের ৫-৭ জনের একটি দল রৌমারী বাজারের ইসলামী ব্যাংকের সামনে অবস্থিত শাওন কাউন্টারে এসে চাঁদা দাবি করে। এ সময় বাস মালিক ও কাউন্টার মাস্টার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দলটি বাসটি আটক করে এবং কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ দেয়।
শাওন পরিবহনের মালিক আব্দুল মতিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে রৌমারী থেকে মহাখালী রুটে তার ৬টি বাস নিয়মিত চলাচল করছে। যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চাহিদার ভিত্তিতে তিনি এই রুটে কুড়িগ্রাম জেলা মোটর মালিক সমিতির অনুমোদন নিয়ে আরও ২টি নতুন গাড়ি যুক্ত করেন। মালিক ও শ্রমিক সমিতির স্থানীয় শাখায় অনুলিপি জমা দিলেও শ্রমিক সংগঠনের ওলি মাহমুদ, জিন্নাহ আলী, মাইদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন শ্রমিক নেতা টিকিট বিক্রি করতে এবং গাড়ি ছাড়তে বাধা দেন। গাড়ি ছাড়তে কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, শ্রমিক সংগঠনে টাকা না দিলে এ গাড়ি চলবে না। মূলত এ কমিটির কোনো বৈধ মেয়াদ নেই। তারা কোন যুক্তিতে টাকা চান, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
শাওন পরিবহনের সুপারভাইজার আফছার আলী বলেন, কোনো মালিকপক্ষ নতুন গাড়ি এ রুটে যুক্ত করলে শ্রমিক সংগঠনকে ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। এছাড়া প্রতিটি বাস থেকে প্রতিদিন ৪২০ টাকা হারে প্রায় ৫০টি বাস থেকে মাসে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়। দেশের অন্য কোথাও এ ধরনের নিয়ম না থাকলেও শুধুমাত্র রৌমারীতে এই অবৈধ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
চাঁদা দাবির বিষয় জানতে চাইলে রৌমারী শ্রমিক সংগঠনের কার্যকরী সহ-সভাপতি জিন্নাত আলী বলেন, তারা কাউন্টারে গিয়েছিলেন—এটি সত্য, তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি মিথ্যা।
রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী বলেন, বাস কাউন্টারে কিছুটা বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।