বিবিধ

তিস্তায় হঠাৎ বন্যা চার জেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

  অনলাইন ডেস্ক : ৬ অক্টোবর ২০২৫ , ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

উত্তরাঞ্চলের চার জেলা—লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে তিস্তাপাড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নদী তীরবর্তী দেড় শতাধিক চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি রয়েছেন অন্তত এক লাখ মানুষ।

রবিবার রাত ১০টার দিকে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপরে উঠলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রেড অ্যালার্ট ঘোষণা করে। মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ব্যারেজের ফ্লাড বাইপাস সড়ক দিয়েও পানি প্রবাহিত হতে থাকে। সোমবার ভোরে পানি কিছুটা কমলেও তা এখনো বিপৎসীমার ওপরেই রয়েছে।

পাউবোর তথ্যমতে, সোমবার সকাল ৬টায় হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী এলাকায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে পানি রেকর্ড করা হয় ৫২.২৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, “রাতে বিপৎসীমার অনেক ওপরে পানি উঠায় ব্যারেজ এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। সব গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। পানি কমতে না শুরু করলে ব্যারেজ রক্ষায় বাইপাস সড়ক কেটে দিতে হতো।”

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, “তিস্তাপাড়ে অন্তত এক লাখ মানুষ পানিবন্দি। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো ঝুঁকিতে থাকলেও এখনো ক্ষতি হয়নি। সার্বক্ষণিক মনিটরিং চলছে।”

অন্যদিকে, কুড়িগ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, “তিস্তায় বন্যা দেখা দিলেও ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা, গঙ্গাধর, জিনজিরাম ও কালজানি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে।”

পানিবন্দি এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ।
চর গোবর্ধান গ্রামের কৃষক সোলেমান আলী (৬৫) বলেন, “রবিবার রাত থেকে ঘরের ভেতর কোমরসমান পানি। আট বিঘা জমির আমন ধান পানির নিচে। দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি না নামলে সব শেষ।”
দোয়ানী এলাকার কৃষক সহিদার রহমান (৬০) জানান, “রাতে পাউবোর মাইকিং শুনে গবাদিপশু ও আসবাবপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গেছি। বাড়ির ভেতর পানি বইছে।”
গড্ডিমারী গ্রামের মজিবর রহমান (৭০) বলেন, “রাতে ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় বাঁধে আশ্রয় নিতে হয়েছে। ছয় বিঘা আমন আর এক বিঘা সবজি খেত তলিয়ে গেছে।”

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চর মহিপুর এলাকার কৃষক মোবারক হোসেন (৬০) বলেন, “সতর্ক বার্তা পাওয়ায় আগেই প্রস্তুতি নিতে পেরেছি, না হলে বড় ক্ষতি হতো।”

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, “সবজি খেতে বড় ক্ষতি হতে পারে। তবে ৩-৪ দিন পানি থাকলেও আমন ধানের ক্ষতি সীমিত থাকবে। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন।”

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে। পানিবন্দিদের জন্য শুকনো খাবার ও ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”