কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ৫:০৪ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত শুনানি আগামী ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জামায়াত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক তার দাখিলকৃত হলফনামায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক প্রদত্ত একটি সক্রিয় বীজ ও সার ডিলার লাইসেন্সের তথ্য উল্লেখ করেননি। অভিযোগে বলা হয়, বিএডিসির লাইসেন্স নম্বর ৮২৭ তার নামে নিবন্ধিত, যা কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কর্তিমারী বাজারে অবস্থিত। লাইসেন্সটি বর্তমানে কার্যকর ও সচল থাকলেও আয় ও সম্পদের বিবরণীতে তা গোপন রাখা হয়েছে।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, উক্ত লাইসেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত আর্থিক লেনদেন ও আয় অর্জনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই তথ্য হলফনামায় অন্তর্ভুক্ত না করায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৪৪(২) লঙ্ঘিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি হলফনামায় মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেন, তাহলে তার প্রার্থিতা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, “আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনগত শুদ্ধতা নিশ্চিত করতে বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক জানান, তার নামে বিএডিসির সার ও বীজ ডিলার লাইসেন্স রয়েছে—এটি তিনি স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, “আমি হলফনামায় ব্যবসার কথা উল্লেখ করেছি। কিন্তু অনিচ্ছাকৃতভাবে ডিলারের কাগজপত্র সংযুক্ত করতে ভুল হয়েছে। শুনানির দিন প্রয়োজনীয় সব নথি উপস্থাপন করা হবে।”
এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী জানান, মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের নামে বিএডিসির সার ও বীজ ডিলার লাইসেন্স রয়েছে এবং সেটি বর্তমানে কার্যকর রয়েছে।
এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম-৪ আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের তদন্ত ও শুনানির সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ ভোটাররা।





