স্টাফ রিপোর্টার: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৭:২৬ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি:রৌমারী ঘাট এলাকায় ড্রেজিং কার্যক্রমের
উদ্বোধনের পর থেকেই অবহেলা আর অনিয়মে থমকে আছে চিলমারী–রৌমারী নৌ-রুট। ড্রেজিংয়ে নয়ছয় ও সমন্বয়হীনতার কারণে টানা তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ফেরি চলাচল। এতে সরকার মাসে প্রায় ৩৫–৪০ লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ ফেরি বন্ধ থাকলেও প্রতি মাসে ৯–১০ লাখ টাকা ব্যয় গুনতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে।
বর্তমানে রৌমারী ঘাট এলাকার বালুচরে আটকে আছে ফেরি কুঞ্জলতা ও কদম। নাব্য সংকট ও ডুবোচর সৃষ্টির কারণে গত বছরের ১৯ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে এ নৌ-রুটের ফেরি চলাচল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)–এর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ও গাফিলতির কারণেই বছরের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে এ রুট। নিয়মিত ও কার্যকর ড্রেজিং না হওয়ায় নৌপথ সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ উদ্বোধনের মাধ্যমে ফেরি কুঞ্জলতার যাত্রা শুরু হয়। পরে চাহিদা বাড়ায় ফেরি বেগম সুফিয়া কামাল যুক্ত করা হলেও নাব্য সংকটের অজুহাতে এক মাসের মাথায় তা সরিয়ে নেওয়া হয়। ভোগান্তি কমাতে পরে ফেরি কদম যুক্ত করা হয়। দুই ফেরি চালু থাকাকালে এ রুটে মাসে প্রায় ৩৫–৪০ লাখ টাকা আয় হতো এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসে।
কিন্তু বারবার নাব্য সংকটের কারণে ফেরি বন্ধ থাকায় চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর, রমনা ও নয়ারহাট এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ব্যবসায়ীরা লোকসান গুনছেন, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব—আর উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে পিছিয়ে পড়ছে উত্তরাঞ্চল।
এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক তাহমিনা আকতার বলেন, “চিলমারী–রৌমারী নৌ-রুটটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ও পরিকল্পিত ড্রেজিং না হওয়া এবং দুই দপ্তরের সমন্বয়হীনতার কারণে সাধারণ মানুষকে বারবার ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও পিছিয়ে পড়বে।”
বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. আকিব সোহেল আকাশ জানান, নৌ-রুটের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় আপাতত ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ফেরি চলাচল সচল রাখতে ড্রেজিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি ড্রেজিং চলমান থাকে, তবে তিন মাসেও কেন সচল হয়নি গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ-রুট?





