সারাদেশ

চিলমারীর শিমুলতলায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

  চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৩:৩৬ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান-রবীন্দ্রনাথের সেই গানের সুর যেন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে চিলমারীতে। তবে এ কোনো দাবদাহ নয়, বরং প্রকৃতির এক মায়াবী আগুন।

চিলমারীর লোকালয় আর রাস্তার ধারের শিমুল গাছগুলো এখন যেন একেকটি রক্তিম প্রদীপ, যা জানান দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের সরব উপস্থিতি।

উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বালাবাড়ি মালেক মোড় থেকে সাদুল্লা যাওয়ার সড়কে সারি সারি এমন শিমুল গাছ নজর কেড়েছে দর্শনার্থীদের।

​শিমুলের এই রাজকীয় সাজ দেখতে এখন চিলমারীর জনপদে মানুষের ঢল। মেঠোপথ ধরে হাঁটলে মনে হয় যেন কেউ লাল গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে একটু প্রশান্তির খোঁজে ঘরোয়া পর্যটকরা ভিড় করছেন এখানে। কারো হাতে ক্যামেরা, কারো চোখে মুগ্ধতা, সবাই ব্যস্ত ফাগুনের এই মুহূর্তটিকে ফ্রেমবন্দি করতে।

​এক সময় শিমুল গাছ কেবল তুলা সংগ্রহের উৎস ছিল, কিন্তু এখন তা বিনোদনের নতুন এক অনুষঙ্গ। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতি বছর বসন্তের এই কয়েকটা দিন চিলমারীর মেঠোপথগুলো উৎসবের আমেজ পায়। যদিও আগের তুলনায় বড় বড় শিমুল গাছের সংখ্যা কমছে, তবুও যেটুকু টিকে আছে তা রক্ষায় সচেতনতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

দর্শনার্থী শান্ত, সৌমিক, রিফাত সহ অনেকেই জানান, ফেসবুকে ছবি দেখে আর ঘরে থাকতে পারলাম না। চিলমারীর এই শিমুল গাছগুলো এত বড় আর এত বেশি ফুল ফুটেছে যে সত্যি মনে হচ্ছে গাছে আগুন লেগেছে। চারপাশটা যেন লাল রঙে সেজেছে, যা দেখে মনটা জুড়িয়ে যায়।

​ফাগুনের এই আগুন নেভবার নয়, বরং এটি মানুষের মনে জাগিয়ে দেয় নতুন প্রাণের স্পন্দন। চিলমারীর এই রক্তিম পথচলা আর শিমুলের মায়া টিকে থাকুক অনন্তকাল, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।