কাউনিয়া( রংপুর)প্রতিনিধি: ৬ অক্টোবর ২০২৫ , ৯:০২ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
উজানের পাহাড়ি ঢল ও অব্যাহত বৃষ্টিপাতে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে কাউনিয়া উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে তিস্তা রেলসেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। পানির চাপ বেড়ে তিস্তা রেলসেতুর পশ্চিম প্রান্তে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গদাই গ্রামের লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে।
ফলে ঢুষমারা, তালুক শাহবাজ, পূর্ব নিজপাড়া, গোপীডাঙ্গা, আরাজি হরিশ্বর, চর প্রাননাথ, বিশ্বনাথ, হরিচরণ শর্মা ও হয়বতখাঁসহ অন্তত নয়টি গ্রামের প্রায় ৩০০ বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আমন ধান, সবজি ও মরিচের খেতসহ এক হাজার একরের বেশি ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেছে। বহু পুকুর ও মাছের খামারের মাছ ভেসে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সোমবার সকাল থেকেই তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে ভাটির চরাঞ্চলগুলোতে হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ে। নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোতে।
ডালিয়া পয়েন্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে ঢল নামায় ডালিয়া ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তিস্তার পানি ভাটির দিকে দ্রুত বেড়ে চলেছে।
বালাপাড়া ইউনিয়নের ঢুষমারার চর এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টি আর উজানের ঢলে তিস্তার পানি বেড়ে আমাদের দেড়শো পরিবারের ঘরবাড়ি ও ধান-সবজির খেত ডুবে গেছে।”
টেপামধুপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “তার ইউনিয়নের চারটি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে, নদীভাঙনও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিদুল হক দুপুরে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে জানান, “বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত রয়েছে, আগামীকাল থেকেই চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ শুরু হবে।”





