বিবিধ

কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

  কাউনিয়া( রংপুর)প্রতিনিধি: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৬:৫৯ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

জনবল সংকট ও নানা অব্যবস্থাপনায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক কর্মীর অভাব, অকেজো সরঞ্জাম, নাজুক ভবন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুমোদিত চিকিৎসক পদ রয়েছে ১৩টি। তবে বর্তমানে কাগজে-কলমে কর্মরত ১০ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৫ জন সংযুক্ত হয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন ধরে জুনিয়র কনসালটেন্ট ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পদ শূন্য রয়েছে। ছয়জন নার্সও দুই বছর মেয়াদি কোর্সের জন্য বাইরে অবস্থান করায় কর্মরত চিকিৎসক-নার্সদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।

হাসপাতালের দুইটি এক্স-রে মেশিন ও একটি আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন দীর্ঘদিন অকেজো। জেনারেটর সচল নয়। একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্স প্রায়ই বিকল থাকে, তাছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রোগীদের ব্যবহারের জন্য টয়লেটগুলোর অবস্থাও নাজুক, যা অনেক সময় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

আয়া, ওয়ার্ডবয়, ক্লিনার ও দারোয়ানসহ সহায়ক কর্মীর ঘাটতিতে সেবার মান আরও ভেঙে পড়েছে। ফলে রোগীরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। জরুরি চিকিৎসা বা সিজারিয়ান ডেলিভারির জন্য অনেক সময় রোগীদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে, যেখানে বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে।

হাসপাতালের ভবনের দেয়ালেও বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেই দেয়ালের নিচেই জরুরি বিভাগ চালু রয়েছে, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।

ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা সীমিত জনবল নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও কার্যকর সরঞ্জাম না থাকায় প্রত্যাশিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজয় শাহ বলেন, “জনবল ও সরঞ্জাম সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে চিকিৎসক পদ পূরণ, অকেজো যন্ত্র মেরামত, নতুন সরঞ্জাম সরবরাহ ও ভবনের সংস্কার জরুরি।