অপরাধ

কর্মকর্তার ঘুষের টাকা কম হওয়ায় শিক্ষকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ

  মাসুদ পারভেজ রুবেল, রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৫:৪৭ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষক ও তিন কর্মচারীর এমপিওভুক্তির জন্য চুক্তিভিত্তিক ১৫ লাখ টাকার স্থলে ৮ লাখ টাকা দেওয়ায়, চুক্তি অনুযায়ী টাকা কম হওয়ায় এক শিক্ষককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রোকসানা বেগমের বিরুদ্ধে। তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক। এ নেক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় ভুক্তভোগী পরিবারের আয়োজনে উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের কাজাইকাটা গ্রামে নিজ বাড়িতে কর্মকর্তার অপকৌশলের বিরুদ্ধে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুলিশের হাতে আটক সাবেক সহকারী শিক্ষক মাইদুল ইসলামের স্ত্রী জাহারানা খাতুন। তিনি বলেন, একজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারীর এমপিওভুক্তির জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা আঞ্চলিক কার্যালয়, রংপুর অঞ্চলে একাধিকবার আবেদন করা হয়। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদনকৃত ফাইল চাপা দিয়ে রাখা হয়।
নিয়োগের পর থেকে বেতন-ভাতা না পেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিরুপায় হয়ে পুনরায় বেতন-ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদন করা হলে রোকসানা বেগম আমার স্বামীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার এলে শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও হবে না। তাই দ্রুত সরাসরি যোগাযোগ করতে বলেন। এরপর আমার স্বামী মাইদুল ইসলাম গত ৯ ফেব্রুয়ারি তার অফিসে সাক্ষাৎ করতে যান।
আবেদনকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির জন্য একজন শিক্ষকের ক্ষেত্রে ৬ লাখ টাকা এবং তিনজন কর্মচারীর জন্য জনপ্রতি ৩ লাখ টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী এমপিওভুক্তির টাকা জোগাড় করতে গরু বিক্রি, জমি বন্ধক এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ৮ লাখ টাকা সংগ্রহ করে আমার স্বামী রোকসানা বেগমের দপ্তরে যান। কিন্তু টাকার পরিমাণ কম হওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তার অধীনস্থ কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান (কম্পিউটার অফিস সহকারী) ও ড্রাইভার শফিকুল ইসলাম শফিকের মাধ্যমে ব্যাগ থেকে জোরপূর্বক টাকা বের করেন। পরে প্রশাসনের লোকজন ডেকে নাটকীয়তার আশ্রয় নিয়ে আমার স্বামীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, রোকসানা বেগমের স্বামী জাহিদুল ইসলাম (সহকারী অধ্যাপক, নীলফামারী সরকারি কলেজ), কম্পিউটার অফিস সহকারী ও ড্রাইভার শফিকুল ইসলাম শফিকসহ তার পক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজের নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।