ডেস্ক রিপোর্ট : ৩০ মার্চ ২০২৬ , ১২:৫৮ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এবারের ঈদযাত্রায় ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং ১,০৪৬ জন আহত হয়েছেন।
একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১,২৮৮ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
গত বছরের (২০২৫) ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৮.৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৮.২৬ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ২১.০৫ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারে ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত এবং ১১৪ জন আহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশ এবং নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ।
দুর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে ৭১ জন চালক, ৫৫ জন শিশু, ৫৪ জন পথচারী, ৫১ জন নারী, ৪২ জন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন।
যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ২৭.১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭.৭৩ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬.২২ শতাংশ বাস, ১৫.২৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৮.৪৯ শতাংশ কার ও মাইক্রোবাস, ৭.৭৩ শতাংশ নছিমন-করিমন এবং ৭.৩৫ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা জড়িত ছিল।
দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী ৩৫.৮৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২.৩৬ শতাংশ পথচারীকে চাপা দেওয়া, ২২.২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া এবং বাকি অংশ বিভিন্ন কারণে সংঘটিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকারকে দোষারোপ নয়, বরং তথ্য দিয়ে সহায়তার উদ্দেশ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রভাব এবং দুর্বল মনিটরিংয়ের কারণে এবারের ঈদে ভাড়া নৈরাজ্য ও দুর্ঘটনা বেড়েছে।





