বিবিধ

বিএমডিএর ৪ নলকূপে তালা, অপারেটার অপসারণের অভিযোগ

  হারুন উর রশীদ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর): ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৭:১৮ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-এর চারটি গভীর নলকূপ থেকে বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত অপারেটারদের বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এতে চলমান বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী অপারেটাররা হলেন— কে এম মাহফুজুর রহমান, মো. মেহেদী হাসান, মুক্তাদির হাসান ও মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন। তারা জানান, সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর আগে তারা বিএমডিএ’র অধীনে অপারেটার হিসেবে নিয়োগ পান এবং এরপর থেকে নিয়মিতভাবে কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সেচসেবা দিয়ে আসছেন।
তাদের অভিযোগ, ২৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুর ও সন্ধ্যায় শিবনগর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল আলম তার সহযোগী সৌরভ হোসেন সাগর, আব্দুল মমিন সোনা, নজরুল কবির রিপন, মোহাম্মদ ইউনুস ও রেজাউল সরকারকে সঙ্গে নিয়ে সেচঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় অপারেটারদের লাগানো তালা ভেঙে লাইনম্যানের ব্যবহৃত সরঞ্জাম বাইরে ফেলে দেওয়া হয় এবং সেচঘরে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
অপারেটাররা দাবি করেন, তারা কোনো ধরনের ঝগড়া-বিবাদে জড়াননি। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বিএমডিএ’র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে সেচ পাম্পের মিটারে তাদের জমাকৃত অর্থ রয়েছে এবং তারা বৈধভাবে পাম্প পরিচালনা করে আসছিলেন বলেও জানান।
তারা আরও অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে এসব গভীর নলকূপ থেকে অর্থ উত্তোলন করে আসছেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর আবারও একইভাবে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
এদিকে, চলমান বোরো মৌসুমে এ ধরনের জটিলতায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামিম ইসলাম বলেন, তিনি মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের নিয়োগকৃত বৈধ অপারেটার ও লাইনম্যানকে গভীর নলকূপ ঘর থেকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে—এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও আইনবিরোধী। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আশরাফুল আলমের (০১৭৫২৩২২৯৪৪) সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।