ইরিন জামান খান প্রান্তি,রাবি প্রতিনিধি: ৬ নভেম্বর ২০২৫ , ১:৩৬ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে(রাবি) প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক পুনঃবহালের দাবিতে এক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচির আয়োজন করে রাবি’র সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং এর সাথে একাত্ম প্রকাশ করে ইতিহাস, দর্শন ও ইসলামিক হিস্ট্রি এন্ড স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক – শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়,প্রতিবাদ কর্মসূচি।
কর্মসূচিতে ধর্মকে ধর্মের জায়গায় রেখে সংগাীতকে চার্চার দাবি জানানে হয়। কর্মসূচিতে শিশুদের মনঃস্তাত্ত্বিক বিকাশে সংগীতের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয় -” সংগীত শুধুমাত্র বিনোদনের বিষয় নয় বরং মানুষের মানসিক বিকাশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ”
একই সাথে সকলকে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির সাথে একাত্ম প্রকাশের জন্য আহ্বান জানানো হয়।
সংগীত বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের জাহিন বিশ্বাস এষা বলেন- “বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যায়ে যে বিষয় পড়ানো হয় হয়, তার বিরুদ্ধে এমন একটা প্রজ্ঞাপন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং সৃজনশীলতা- মননশীলতা বৃদ্ধি পায়।বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেখানে শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত কে বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো হয়, সেখানে বাংলাদেশে কেন এই পদটি বহাল থাকবে না?? দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একযোগে আমরা যে দাবির জন্য পথে নেমেছি, সে দাবি আদায় করবো।”
সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী অনিক মল্লিকা বলেন – “সংগীতকে মানুষের আত্মার খোরাক, যা মানুষের চেতনাকে বৃদ্ধি করে। অনতিবিলম্বে এই প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।”
দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন-” মধ্য প্রাচ্যের মুসলিম দেশেও যেখানে শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে সংগীত ও শারীরিক চার্চার বিষয়টি অব্যহত আছে, সেখানে আামাদের দেশের সংগীত ও শারীরিক শিক্ষার পদে শিক্ষকের কোনো পদ না রেখে শিশুদের শারীরিক -মানসিক বিকাশকে কেন বাঁধাগ্রস্ত করা হবে???”
ইসলামিক হিস্ট্রি এন্ড স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক হারুন আর রশিদ বলেন- ” সংস্কৃতির কার্যক্রম একটা দেশের পরিচয়। তাই সরকার কর্তৃক এই প্রজ্ঞপন স্থগিত করে সংগীতের মান কিভাবে আরও উন্নয়ন কার যায় সেই চিন্তা করে এই প্রঙ্গাপন স্থগিত করার দাবি জানান। ”
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ লাদেন জানান – শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত মানুষের মননশীলতার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুদের ভবিষ্যতে সক্রিয়, বিকশিত, সচেতন ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উক্ত প্রজ্ঞাপন বাতিলের জোর দাবিও জানান তিনি।
এছাড়াও কর্মসূচিতে গানে গানে সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের অবস্থান থেকে প্রতিবাদ জানান।











