উত্তরের আলো

রুয়েটে শিক্ষার্থীকে শিবির ট্যাগ দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি

রুয়েটে শিক্ষার্থীকে শিবির ট্যাগ দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি
Oplus_131072

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে হত্যার হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গভীর নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সি-সেকশনের ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীদের ভোটে একজন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হওয়ার পরপরই অভিযোগ ওঠে, একই বর্ষের বি-সেকশনের সিআর নুমান জামান দিপু তাকে রাজনৈতিক সংগঠন “শিবির”-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ট্যাগ দিয়ে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন,
“আমি একজন সাধারণ মুসলিম হিসেবে ধর্ম পালনের চেষ্টা করি। সম্ভবত এটিকে উপলক্ষ বানিয়েই আমাকে ‘শিবির’ ট্যাগ দেওয়া হয়েছে। অথচ রুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, আর আমি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নই। সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়া মানে আমার জীবন নিয়ে খেলাচ্ছলে অপরাধ করা হয়েছে। এতে আমি ভীষণভাবে আতঙ্কিত।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বাবা-মা আমাকে পড়াশোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন, আবরার ফাহাদের মতো সহপাঠীর হাতে খুন হওয়ার জন্য নয়।”
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মেকানিক্যাল ‘২০ সিরিজের কিছু অজ্ঞাত সিনিয়রের নামও হুমকিদাতা উল্লেখ করেছে, যারা ‘২১ সিরিজের শিক্ষার্থীদের ক্ষতির ইঙ্গিত দিয়েছে। ভুক্তভোগীর প্রশ্ন—“তাদের পরিচয় কী? ক্ষমতার উৎস কোথায়? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি তাদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেবে?”
এছাড়া সিআর নির্বাচন ‘ম্যানুপুলেট’ করতে না পারার অভিযোগে তাকে আরেক দফা হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা একটি সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব ও অপকৌশলের আভাস দিচ্ছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মনে করেন, ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত হুমকিই নয়, বরং সকল শিক্ষার্থীর জন্য একটি অশনি সংকেত। তার ভাষায়—
“আজ আমাকে প্র্যাকটিসিং মুসলিম হওয়ায় ট্যাগিং করে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ইতিহাস বলে, এমন হুমকি অনেক সময় হত্যাকাণ্ডে গড়ায়। এটি শুধু আমার জন্য নয়, বরং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল রুয়েট শিক্ষার্থীর জন্যই উদ্বেগজনক।”
এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যন্ত্রকৌশল বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “রুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও যদি এভাবে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়, তবে আমাদের পড়াশোনার পরিবেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? প্রশাসনকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

আরেকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“একজন সিআর নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হুমকি দেওয়ার ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে লজ্জাজনক। আজ যদি এর সঠিক বিচার না হয়, কাল আরও বড় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান,
“একটি কথোপকথনে একজন শিক্ষার্থী নবনির্বাচিত ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভকে ‘মেরে ফেলার’ ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছেন—এ ধরনের হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু হুমকিদাতাকে নয়, বরং যে ‘২০ সিরিজের’ সিনিয়ররা তাকে আশ্রয় ও ক্ষমতা দিচ্ছে তাদেরও পরিচয় উদঘাটন করে রুয়েট প্রশাসন যথাযথ ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।”

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা সতর্ক করেছেন, এটি শুধু এক ব্যক্তির প্রতি হুমকি নয়, বরং সকল শিক্ষার্থীর জন্য একটি অশনি সংকেত। তাদের ভাষায়,
“আজ আমাকে প্র্যাকটিসিং মুসলিম হওয়ায় ট্যাগিং করে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ইতিহাস বলে, এমন হুমকি অনেক সময় হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। এটি শুধুমাত্র আমার জন্য নয়, বরং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল রুয়েট শিক্ষার্থীর জন্য উদ্বেগজনক।”
শিক্ষার্থীরা জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

শেয়ার: