কৃষি

কাউনিয়ায় ছাগল পালন করে রেনুবালার ভাগ্য পরিবর্তন

  কাউনিয়া( রংপুর)প্রতিনিধি: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৬:০৪ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

দরিদ্র সংসারের হাল ধরতে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে ছাগল পালন শুরু করেছিলেন রেনু বালা। মাত্র দু’টি ছাগল দিয়ে শুরু করা সেই পথচলা আজ তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে। বর্তমানে তার খামারে ৫২টি ছাগল রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ টাকা। প্রতিবছর এ খামার থেকে তিনি আয় করছেন দেড় লাখ টাকারও বেশি।

কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা নদীর পাড় ঘেঁষা পাঞ্জর ভাঙা গ্রামের বাসিন্দা মনোরঞ্জন অধিকারীর স্ত্রী রেনু বালা ২০১২ সালে এনজিও থেকে ৪ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে প্রথম দু’টি ছাগল কিনেছিলেন। এক বছরের মাথায় সেই ছাগল চারটি বাচ্চা দেয় এবং বিক্রি করে তিনি আয় করেন ২৫ হাজার টাকা। সেখান থেকেই শুরু হয় তার স্বপ্নের ছাগলের খামার।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শে তিনি যমুনা পাড়ি, তোজাপাড়ি, হরিয়ান ও ব্ল্যাক বেঙ্গল প্রজাতির ছাগল কিনে ম্যাচিং পদ্ধতিতে খামার গড়ে তোলেন। বর্তমানে তার খামারে চার প্রজাতির ছাগল রয়েছে।

রেনু বালা বলেন,“আমি নিজেই ছাগলের খাওয়ানো থেকে শুরু করে পরিচর্যার সব কাজ করি। অবশ্য স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও আমাকে সহযোগিতা করেন। বাড়ির পাশের পতিত জমিতে হাইড্রোপ্রোনিক ও নেপিয়ার ঘাস আবাদ করেছি, যা ছাগলের উৎকৃষ্ট খাদ্য। এছাড়া কাঁঠালপাতা, গম, ভুট্টা, ছোলা বুটের গুঁড়া, সয়াবিন ও খড় দিয়েই খাবারের চাহিদা মেটানো হয়।”

তিনি আরও জানান, ছাগল বছরে দু’বার প্রজনন ক্ষমতা রাখে এবং প্রতিবার একাধিক বাচ্চা দেয়। রোগ-বালাইও তুলনামূলক কম। বছরে একবার পিপিআর ও গডপক্স ভ্যাকসিন দিলেই আর তেমন কোনো ওষুধ লাগে না। ফলে অল্প খরচে বেশি লাভ হয়।

রেনুবালা বলেন,“একটি বিদেশি গাভীকে প্রতিদিন খাওয়াতে ৩০০ টাকা খরচ হয়। অথচ ওই একই টাকায় প্রতিদিন ২০টি ছাগলকে খাওয়ানো যায়। দেশে ছাগলের বাজার চাহিদা যেমন বেশি, প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এর চাহিদা প্রচুর। ফলে ছাগল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।”

তার খামার দেখতে প্রতিদিন আশপাশের মানুষ আসেন এবং পরামর্শ নেন। ইতোমধ্যেই অনেকেই তার প্রেরণায় ছাগল পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন। শুধু ছাগল নয়, এবার তিনি গরু পালনও শুরু করেছেন। বর্তমানে তার খামারে ৮টি গরু রয়েছে, যার মধ্যে দু’টি গাভী দুধ দিচ্ছে। এসব গরুর বাজারমূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা হবে বলে তিনি জানান।

খামার দেখতে আসা জসিম সরকার বলেন,“রেনুবালার সফলতার কথা শুনে আমি এসেছি। বাজারে ছাগলের চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো। তাই আমিও তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ছাগল পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

কাউনিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ আর এম আল মামুন বলেন,“ছাগল পালন করে রেনুবালা সফল হয়েছেন। আমরা নিয়মিত তার খামার পরিদর্শন করি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। বর্তমানে অনেকেই ছাগল পালনে আগ্রহী হচ্ছেন এবং তাদেরকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”

২০১৬ সালে ছাগল পালনে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে রেনুবালা জাতীয় কৃষি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। এখন তিনি এলাকার নারীদের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।