বিবিধ

শীতে জবুথবু কুড়িগ্রামের মানুষ,শুরু হয়নি পর্যাপ্ত কম্বল বিতরণ

  আতাউর রহমান বিপ্লব,কুড়িগ্রাম: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ২:৩২ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

নদ-নদী বেষ্টিত, সীমান্তঘেঁষা ও হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত জেলা কুড়িগ্রাম। হাড়কাঁপানো শীত ও হিমেল হাওয়ায় জবুথবু হয়ে পড়েছে এ জেলার জনজীবন। এবছর শীতে রাতভর বৃষ্টির মতো ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়ছে কুয়াশা।
প্রতিদিন বিকেল থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত স্থানভেদে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। এর সঙ্গে শিরশিরে হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। বেলা গড়িয়ে অনেক দেরিতে সূর্যের দেখা মেলায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ। গত তিন দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।
আজ সকাল ৬টায় জেলার রাজারহাট উপজেলা আবহাওয়া অধিদপ্তর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ।
ঘন কুয়াশা ও উত্তরীয় হিমেল হাওয়ার কারণে কাজে যেতে পারছেন না অনেক শ্রমজীবী মানুষ। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের শহিদ মিয়া বলেন,
“কাজ না করলে পেটে ভাত যায় না। কিন্তু এই শীতে কাজ করলে হাত-পা জ্বালা করে, শরীর কামড়ায়।”
ফুলবাড়ি উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের বাসিন্দা খোকন মিয়া বলেন,“আমরা গরিব মানুষ, কম্বল কেনার টাকা নাই। এখন পর্যন্ত কোনো মেম্বার বা চেয়ারম্যান কেউ কম্বল দেয় নাই।”
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম জানান,“অতিরিক্ত শীতের কারণে আমার ছোট বাচ্চাটা কয়েক দিন ধরে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগছে।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, শীতের প্রভাবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
এদিকে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, এবছর শীতে জেলার ৯টি উপজেলায় অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে প্রথম পর্যায়ে ২২ হাজার কম্বল ও নগদ ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।